ইংল্যান্ডকে ২৯৩ রানে প্রথম ইনিংস গুটিয়ে টাইগারদের প্রথম ইনিংস শুরুটা বেশ সাবলীল হলেও পর পর দুই উইকেট হারিয়ে ব্যাট করছে টাইগাররা। শুরু থেকেই দেখে শুনে খেলছিল দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস।১৩ ওভার পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থেকে ধীরগতিতেই ২৯ রান সংগ্রহ করে তারা।
কিন্তু ১৪ ওভারেই ছন্দ পতন।বল করতে এসেই সফল মঈন আলী।ওভারের দ্বিতীয় বলে কুইকার দিয়ে সরাসরি বোল্ড করেন ওপেনার ইমরুল কায়েসকে (২১)।
ওভারের পঞ্চম বলটা মঈন কিছুটা বুদ্ধি খাটিয়ে টার্ন আর বাউন্স দিয়েছিল তাতেই ধরাশায়ী মুমিনুল (০)।ব্যাটের কানায় লেগে গালিতে স্টোকসের কাছে তালুবন্দী মমিনুল।
ব্যাটিংয়ে ধুঁকতে থাকা টাইগাররা ঘুরে দাঁড়ায়। তৃতীয় উইকেটে মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন তামিম। দুজনের ব্যাটে দলের স্কোর ১০০ পেরিয়ে যায়। তামিম তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৯তম টেস্ট ফিফটি।
চা বিরতির আগে আদিল রশিদের বলে স্লিপে জো রুটকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ। আর তাতে ভেঙে যায় ৯০ রানের বড় জুটি। ৬৬ বলে ৩টি চারে মাহমুদউল্লাহ করেন ৩৮ রান।
মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। তবে দারুণ ৭৮ রানের এক ইনিংসের পর ইংল্যান্ডের চতুর্থ শিকার হিসেবে ফিরতে হয়েছে তামিমকে।
এর আগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টাইগারদের ভয়ংঙ্কর নীল স্পিন বিষে ইংলিশদের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেছে মাত্র ২৯৩ রানে।আগের দিনের সঙ্গে মাত্র ৩৫ রান যোগ করে তারা। গতকাল অভিষেকে পাঁচ উইকেট নেওয়া মিরাজ শেষ উইকেটটি নিয়ে প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট দখল করে। প্রথম দিনের উজ্জ্বল পারফর্মেন্সের পরে দ্রুত অলআউট করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় দিনের খেলায় মাঠে নামে বাংলাদেশ। ৭ উইকেটে ২৫৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড।

ওভারের প্রথম বলে উইকেট তুলে নিয়ে দিন শুরু করেছে তাইজুল। ক্রিস ওকস ৩৬ রানে তাইজুলের বলে মমিনুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে উইকেট পেতে পারতেন মিরাজও। তার বলে রশিদকে এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান রশিদ। ‘ডিআরএস ’তে দেখা যায়, বল স্টাম্প মিস করেছিল। এরপরেই আবারো সফল হন তাইজুল। কাভারে সাব্বিরের কাছে তালুবন্দী করে আদিল রশীদকে (২৬) রানে প্যাভিলনে ফেরান। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে রুম করে কাভার দিয়ে বল সীমানা ছাড়া করতেই গিয়েই সাব্বিরের কাছে ধরা পড়েন তিনি।খানিকটা পরেই স্টুয়ার্ট ব্রডকে (১৩) রানে উইকেটের পেছনে মুশফিকের গ্লাভসবন্দী করেন মিরাজ।
এর আগে গতকাল টস জিতে ব্যাট করতে নামলে অভিষিক্ত মেহেদি হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে নাজেহাল হয় ইংলিশরা। তার সঙ্গে সাকিবের বোলিংও পড়তে পারেনি ইংল্যান্ডের স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা। প্রথম দিন শেষে ৭ উইকেটে ২৫৮ রান করে ইংল্যান্ড।
ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন মঈন আলী। এছাড়া বেয়ারস্টো ৫২ রান করেন।
বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে অভিষিক্ত মেহেদি হাসান মিরাজ ছয়টি উইকেট নেন। এছাড়া সাকিব ও তাইজুল দু’টি করে উইকেট নেন।








