ভারতীয় চলচ্চিত্রে সর্বাধিক সফল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে বিবেচিত কিশোর কুমার এর জন্মদিন আজ। ১৯২৯ সালের এই দিনে মধ্যপ্রদেশের খান্দোয়ায় জন্ম নেন কিশোর কুমার। পুরো নাম ছিলো আভাষ কুমার কাঞ্জিলাল গঙ্গোপাধ্যায়। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। একাধারে ছিলেন গায়ক, অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও গীতিকার। অদম্য মেধাবী কিশোর কুমার প্রথম জীবনে হতে চেয়েছিলেন নায়ক, কিন্তু চিরস্মরণীয় হয়েছেন গায়ক হিসেবেই।
শচীন দেব বর্মনের পরামর্শে তিনি নিজের গায়কী পাল্টে এমন এক গায়কী কায়দা আবিস্কার করেন যা সেই সময়ের অপর প্রধান দুই গায়ক মুহম্মদ রফি এবং মুকেশের থেকে ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর গানের বৈশিষ্ট্য ছিল গলাকে ভেঙে গান গাওয়া যা আগে কখনও শোনা যায়নি, তবে এই কায়দা খুবই জনপ্রিয় হয়। কুমার বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছিলেন, এছাড়াও তিনি তার ব্যক্তিগত অ্যালবামেও বিভিন্ন ভাষায় গান করেছেন, বিশেষত তার বাংলায় গাওয়া গানগুলি সর্বকালের ধ্রুপদী গান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সে যেন আমার পাশে আজো বসে আছে, মোর স্বপ্নের সাথী তুমি কাছে এসো, একদিন পাখি উড়ে যাবে যে আকাশে, আজ এই দিনটাকে মনের খাতায় লিখে রাখো, ওগো নিরুপমা, তোমার বাড়ির সামনে দিয়ে, পৃথিবী বদলে গেছে, কি আশায় বাঁধি খেলাঘর , চিরদিনই তুমি যে আমার, আমার পূজার ফুল, আশা ছিল ভালোবাসা ছিল।
তিনি ৮ বার শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য গায়কের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন এবং একই বিভাগে সর্বাধিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার বিজয়ের রেকর্ড করেছেন। তাকে মধ্যপ্রদেশ সরকারের লতা মঙ্গেশকর পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং তার নামে হিন্দি চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য কিশোর কুমার পুরস্কার প্রদান চালু করে।
পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত কমেডি নায়ক হিসাবে জনপ্রিয় হন।
তাঁর অভিনয়ের কায়দা ছিল অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সেই সময়ের প্রবল জনপ্রিয় এবং ক্ষমতাশালী তিন নায়ক- রাজ কাপুর, দেব আনন্দ এবং দিলীপ কুমার বলিউড শাসন করা সত্ত্বেও কিশোর কুমার নিজের এক পৃথক জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হন। পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে তিনি ছিলেন এক প্রবল ব্যস্ত, সফল নায়ক এবং গায়ক।
তার অভিনীত বিখ্যাত কয়েকটি কমেডি চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে বাপ রে বাপ (১৯৫৫), পেয়িং গেস্ট (১৯৫৭), চলতি কা নাম গাড়ি (১৯৫৮), হাফ টিকিট (১৯৬২), পড়োশন (১৯৬৮), হাঙ্গামা (১৯৭১), পেয়ার দিওয়ানা (১৯৭৩), বাড়তি কা নাম দাড়ি (১৯৭৪)। এছাড়া অন্যান্য সিনেমার ভিতর রয়েছে নোকরি, বন্দী, দূর গগন কি ছাঁও মে, দূর কা রাহি সহ আরো অনেক।
তাঁর অভিনয়ে পাগলামির ছাপ ছিল স্পষ্ট, যা তিনি ইচ্ছা করেই তৈরি করেছিলেন। এমনকি খান্ডোয়ায় তাঁর বাড়ির সামনে নিজেই ‘মেন্টাল হসপিটাল’ লেখা সাইনবোর্ড লাগিয়েছিলেন।
১৯৬৯ সালে শক্তি সামন্ত’র আরাধনা মুক্তি পায়।এই সিনেমার নায়ক ছিলেন নবাগত রাজেশ খান্না। রাজেশ খান্নার জন্য এই সিনেমায় কিশোর তিনটি গান গেয়েছিলেন ‘কোরা কাগজ থা ইয়ে মন মেরা’ লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে আর দুটি গান হলো, রুপ তেরা মস্তানা এবং মেরে সাপনো কি রানী তিনটি গানই বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং কিশোর কুমারের সঙ্গীতজীবনকে আরো খ্যাতিময় করে। এই সিনেমায় রূপ তেরা মস্তানা গানের জন্য কিশোর প্রথম বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। তিনি লতা মুঙ্গেশকরের অসম্ভব ভক্ত ছিলেন,তাঁর সম্মানে সব সময় পারিশ্রমিক নিতেন লতার চেয়ে ১ রুপি কম।
ব্যক্তিগত জীবনে মধুবালাকে বিয়ে করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নাম নেন করিম আবদুল। ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর এই গুণী ব্যক্তিত্ব না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।






