অসময়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। তার এই চলে যাওয়ায় মুর্ছা যাচ্ছেন তার কোটি ভক্ত-সমর্থক। সংগীতের পাশাপাশি বড় রকমের মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু-এমনটিই জানাচ্ছেন তার ভক্তরা।
গোপনে তিনি কাজ করেছেন মানুষের জন্য। কখনই প্রকাশ করতে চাননি তা। মানুষকে সহযোগিতা করার এমন একটি ঘটনা জানিয়েছেন এক ব্যক্তি।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তার আড়াই বছর বয়সী ভাগ্নে আয়ানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপারেশন করানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। অপারেশনটা ছিলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল। আয়ানকে বাঁচাতে হলে এই অপারেশনের কোন বিকল্প ছিলো না।
বিভিন্ন সোর্স থেকে অপারেশনের জন্য টাকা সংগ্রহ করার পরও প্রায় দেড় লাখ টাকার ঘাটতি ছিলো, যা কোনভাবেই এই অল্প সময়ের মধ্যে জোগাড় করা যাচ্ছিল না। তখন আর উপায়ন্তর না দেখে দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে আয়ানের অপারেশনের জন্য সাহায্য চেয়ে ফেসবুকে একটা পোস্ট দেন তিনি। হাতে সময় ছিলো সাত ঘণ্টার মতো।
কিন্তু পরদিন সকাল ৯ টা পর্যন্ত কারো কোন সাহায্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। ডাক্তারকে অনুরোধ করেন অপারেশন শুরু করার প্রস্তুতি নিতে। যে টাকা ছিলো সেটা পরিশোধ করে বকেয়া টাকার জন্য তিন ঘণ্টা সময় নেন। আয়ানকে তখন জরুরি বিভাগ থেকে আনা হবে অপারেশন থিয়েটারে, তাই অপারেশন থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ঠিক তখনই এক মহান ব্যক্তির আগমন ঘটে সেখানে। এসেই তিনি আয়ানের অভিভাবকে খুঁজতে থাকেন। তারা তার সঙ্গে কথা বলেন এবং খুবই অবাক হন তাকে দেখে। আয়ানের আত্মীয়রা জানতে পারেন তিনি ফেসবুকের পোস্ট দেখে আয়ানকে দেখতে এসেছেন।
তিনি আয়ানকে দেখার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। জরুরি বিভাগ থেকে আয়ানকে অচেতন এবং অক্সিজেন মাস্ক পরানো অবস্থায় অপারেশন থিয়েটারের সামনে আনা হয়। ওই ভদ্রলোক আয়ানকে দেখে কাছে যান এবং আয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দুই থেকে তিনবার বলেন, ‘আয়ান বাবুটা, সোনামনিটা, আল্লাহ তোমাকে ভালো করে দিবেন, সুস্থ করে দিবেন।’
এ কথাগুলো বলে তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। তার কান্না দেখে সবাই কেঁদে ফেলেন।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আয়ানকে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকানো হলো। প্রায় চার ঘণ্টা লাগে অপারেশন শেষ হতে। অপারেশন ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। ওই বিশেষ ব্যক্তিটি তখন জানান, সম্পূর্ণ বকেয়া টাকা তিনি পরিশোধ করে দিয়েছেন এবং তিনি অনুরোধ করেন, তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় যেন তার এই আর্থিক সহযোগিতার কথা কাউকে বলা না হয়।
আজ আইয়ুব বাচ্চু নেই। তার চলে যাওয়ার পর এই কথা আর গোপন রাখেননি আয়ানের মামা সৌরভ আল জাহিদ। বলেছেন কে ছিলেন সেই মহান ব্যক্তি।
তিনি আর আর কেউ নন, তিনি সবার প্রিয় আইয়ুব বাচ্চু।









