জাপানে পৌরসভার অধিবেশনে কোলের শিশুকে নিয়ে উপস্থিত হওয়ায় স্থানীয় এক নারী সদস্যের সমালোচনা করেন আইনজীবীরা। এ ঘটনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরে শিশুটিকে বাইরে রেখে আসলে অধিবেশন শুরু হয়।
বিবিসি জানায়, বুধবার কুমামোতো পৌরসভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে শিশুসন্তানসহ উপস্থিত হন ইউকা ওগাতা। তার সন্তানের বয়স ৭ মাস হলেও প্রথমবারের মতো তিনি তাকে নিয়ে ওই অধিবেশনে যোগ দেন।
কিন্তু তার এই কাজ ভালোভাবে দেখেননি কর্তৃপক্ষ। ওগাতা নিয়ম ভঙ্গ করেছেন বলে সমালোচনা করে তারা।
তবে সন্তান নিয়ে যাওয়ার পক্ষে যুক্তি হিসেবে স্থানীয় গণমাধ্যমকে ওগাতা বলেন, আমি শুধু দেখাতে চেয়েছি একই সঙ্গে সন্তান পালন এবং কাজ করা নারীদের জন্য কতটা কঠিন। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার বলেছি হয় আমাকে অধিবেশনে ছেলেসহ যোগ দেয়ার অনুমতি দিন, কিংবা ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা করে দিন। কিন্তু তারা কোন ইতিবাচক সাড়া প্রদান করেনি। তাই আমি স্বাভাবিকভাবে ছেলেকে নিয়ে পরিষদ অধিবেশনে যোগ দেয়ার সিন্ধান্ত নেই।
তিনি আরও বলেন, আমি চেয়েছিলাম পরিষদ হবে এমন জায়গা যেখানে যেসব নারী সন্তান নিচ্ছেন তারাও ভালভাবে কাজ করতে পারবে।
তবে কাউন্সিল সচিব তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওগাতা দীর্ঘ সময়ের জন্য তার ছেলেকে আলাদা রাখার ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কিন্তু তিনি শুধু পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ছেলেকে সঙ্গে রাখার অনুরোধ করেননি।
পরে ওগাতার এক বন্ধুর মাধ্যমে ছেলেকে বাইরে নেয়া হয় এবং ৪০ মিনিট পর অধিবেশন শুরু হয়।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিষদ ওগাতার বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং ছোট শিশুদের বিষয়ে কোন পথ খুঁজে বের করতে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলবে। স্পিকার ইয়োশিতোমো সাওয়াদা বলেন, নারী সদস্যরা যেন সন্তানসহ অধিবেশনে কাজ করতে পারেন, সেই পদ্ধতি বের করতে আমরা কাজ করতে চাই।
লিঙ্গ বৈষম্যের ক্ষেত্রে পুরনো ধ্যান-ধারণা জপানে এখনো বিদ্যমান। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ২০১৭ সালের বিশ্ব লিঙ্গ বৈষম্য তালিকায় ১৪৪ দেশের মধ্যে জাপানের অবস্থান ১১৪ তে। দেশটিতে বিয়ে বা সন্তান জন্মদানের পর অনেক নারীকে কাজ ছেড়ে দিতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে সন্তান জন্মদানের পর নারীদের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ সহজ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু এরপরও সেখানে লিঙ্গ বৈষম্য দিন দিন প্রকট হচ্ছে।









