শিশুর জন্য একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং সুন্দর আগামীর প্রত্যাশার মধ্যদিয়ে আগামীকাল ১৭ মার্চ শনিবার সারা দেশে পালিত হতে যাচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন ও ২৩ তম জাতীয় শিশু দিবস। বিশেষ এ দিনটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন: ‘রঙ ছড়ানো আলো, লাল-সবুজের বাংলাদেশে থাকবে শিশু ভালো।
দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার ১৬ মার্চ থেকে শিশু একাডেমি আয়োজন করেছে বই মেলার। ১১ দিনব্যাপী এই মেলা বাংলাদেশ শিশু একাডেমি চত্বরে উদ্বোধন হবে বেলা ১১ টায়। এবারের মেলায় ৬৬টি বেসরকারি ও ৭ সরকারি সংস্থা/প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।
দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন বিকাল ৩টা থকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলায় প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত থাকছে। আর ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার মেলা চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। ক্রেতা-দর্শনার্থী টানতে থাকছে বিশেষ অফারও। মেলায় বিক্রি সকল বই থাকবে ন্যুনতম ২৫ শতাংশ মূল্যছাড়।
বিশেষ এ দিনটিকে সামনে রেখে বিভিন্ন সামজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি ও স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ জাতির পিতার জন্মদিনটি সফল ভাবে উদযানে দু’দিন ব্যাপি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে ১৭ মার্চ শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপি দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন। এরপর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ১০ টায় টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচিতে থাকছে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। এরপর বাদ জোহর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে শেখ রাসেল স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত, আমাদের ছোট রাসেল সোনা শিশু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন, সেলাই মেশিন বিতরণ, উঠব জেগে, ছুটব বেগে-শীর্ষক ভিডিও প্রদর্শন, শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান, বইমেলা উদ্বোধন ও শিশুদের আঁকা আমার ভাবনায় ৭ মার্চ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এসময় টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন: সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, কাজী জাফর উল্লাহ; কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শ্রী মুকুল বোস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপসহ আরও অনেকেই।
দুই দিন ব্যাপি কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ১৮ মার্চ বিকেল ৩ টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।
জাতীয় শিশু দিবসকে সামনে রেখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সপ্তাহব্যাপি ‘স্বচ্ছ ঢাকা’ ব্যানারে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। যা চলবে ২৩ মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত। দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি গিনেজ বুকে স্থান পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ও নিয়েছে আলাদা উদ্যোগ। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতির পিতার জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া হবে। চিকিৎসা প্রার্থীরা সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোর বর্হিঃবিভাগ থেকে এ সুবিধা পাবেন।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতারসহ বেসরকারি সকল টেলিভিশন চ্যানেল প্রচার করবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
সংবাপত্রগুলোতে থাকবে বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ। এরপাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদে মোনাজাত, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনাসভারর আয়োজন করা হবে।
শিশু দিবসের উৎপত্তি: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় শিশু দিবস পালন করা হলেও ১৯২০ সালের ২৩ এপ্রিল প্রথমবারের মতো শিশু দিবস পালন করে তুরস্ক। বর্তমান বিশ্বে ২০ নভেম্বর ‘বিশ্ব শিশু দিবস’ এবং ১ জুন ‘আন্তর্জাতিক শিশু দিবস’ পালিত হচ্ছে।
১৯৯৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধুর শিশু প্রেম বিবেচনায় নিয়ে তার জন্ম দিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।










