বছর ঘুরে আবারও প্রাচ্যনাটের সাড়া জাগানো প্রযোজনা ‘বনমানুষ’ নাটকের মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে। ৭ জানুয়ারি রবিবার শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ হলে সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির মঞ্চায়ন হবে। আমেরিকান নাট্যকার ইউজিন ও’ নিল রচিত নাটক ‘দ্য হেয়ারি এপ’ অবলম্বনে বনমানুষ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন নির্দেশক বাকার বকুল।
এ নাটকের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে জাহাজের খোলের ভেতর দাঁড়িয়ে ইঞ্জিনের চুল্লিতে কয়লা ভরে এমন কয়েকজন শ্রমিককে ঘিরে। তাদেরই অন্যতম হচ্ছে ইয়াংক। দেখতে প্রায় বনমানুষের মতো কালি মাখা অবস্থায় তাকে আরও বন্য মনে হয়। মিলড্রেড ডগলাস, পুঁজিপতির আদুরের কন্যা, যে পুঁজিপতি আবার এ জাহাজের পরিচালক মণ্ডলীর অন্যতম। ডগলাস এ জাহাজের যাত্রী। সে একবার জাহাজের খোলো নেমে ইয়াংককে দেখে ভয়ে চিৎকার দেয়। ইয়াংক যখন বুঝতে পারে যে তাকে উপলক্ষ করেই এই চিৎকার, তখন তীব্র একটা ঘৃণা বোধ জন্ম নেয় তার মধ্যে। ডগলাসকে কেন্দ্র করেই সারা দুনিয়ায় পুঁজিপতিদের ঘৃণা করতে থাকে সে। ভাঙতে চায় পুঁজিপতিদের ‘স্বর্গ’ তুল্য প্রাসাদ। জাহাজ বন্দরে ভিড়লে সে শহরে ঘুরতে বের হয় তার এক সঙ্গীকে নিয়ে। শহরের জৌলুস ও উচ্চবিত্তের জাঁকজমক তাকে ক্ষিপ্ত করে তোলে। নানারকম পাগলামি প্রকাশ পায় তার মধ্যে। শেষে সে জেলে প্রেরিত হয়। জেল থেকে পালিয়ে সে সরাসরি চিড়িয়াখানায় বনমানুষের খাঁচার কাছে গিয়ে জন্তুটাকে ডাক দেয়। তার নিজের সাথে হাত মেলানোর জন্য। শেষে বনমানুষের আক্রমণে নিহত হয় সে। এই কাহিনীটিই মঞ্চে ফুটিয়ে তোলা হবে।

নাটকের বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে নির্দেশক বাকার বকুল জানান, ইউজিন ও’ নিল জন্মগ্রহণ করেছিলেন পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে এবং এই নাটকের মধ্য দিয়ে আঘাতও করেছিলেন পুঁজিবাদকে। নিউইয়র্ক থেকে যাত্রা করা একটি জাহাজকে কেন্দ্র করে এ নাটক। জাহাজের খোলের ভেতর দাঁড়িয়ে ইঞ্জিনের চুল্লিতে কয়লা ভরতে থাকা কয়েকজন মানুষের গল্প। নাটকটির নির্দেশনার কাজ করতে গিয়ে সব সময় আমার কাছে মনে হয়েছে এ জাহাজটা যেন জাহাজ নয় একটি পৃথিবী। যে পৃথিবীতে শ্রেণী বৈষম্য বেড়েই চলেছে এবং এমন সীমাহীনতায় পৌঁছেছে যেখানে দিনমজুর মানুষগুলোকে উপরতলার মানুষেরা অসভ্য জানোয়ার বলে মনে করছে। প্রশ্ন আসে মহাকালের পথে ধাবমান পৃথিবী চলছে কোন শক্তিতে। জাহাজের ইঞ্জিনটাকে সচল রাখছে কারা চুল্লিতে কয়লা দিয়ে। এই নাটকের মূল চরিত্র ইয়াংকের তীব্র বেদনা বোধ ও ক্ষোভের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর লাঞ্ছিত নিপীড়িত মানুষের আর্ত হাহাকার ও ক্ষোভ ফুসে উঠেছে। জাতিগত পর্যায় থেকে পরিবার কিংবা ব্যক্তিগত পর্যায় পর্যন্ত পুঁজিবাদের চর্চাটা সিঁধ কেটে ঢুকে পরেছে চোরের মতো। যদিও সেই গোপন চর্চা বিশ্বায়নের নামে প্রকাশ্য দানবরূপে গ্রাস করছে পৃথিবীকে। বিশ্বায়ন এক ধাপ্পাবাজি। সাম্রাজ্যবাদীদের নয়া ঔপনিবেশিকতার এক সূক্ষ্ম কৌশল। ঞযব ঐধরৎু অঢ়ব নাটকের মধ্য দিয়ে বিশ্বায়নের অপকৌশলটাকে আমরা অনুধাবন করতে চাই রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে ব্যক্তিগত পর্যায় পর্যন্ত।








