বিতর্কের শুরু গত ৬ অক্টোবর জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘শিরোনামহীন’ এর ভোকাল তানযীর তুহীন-এর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ঘিরে। স্ট্যাটাসে জানান, ব্যক্তিগত কারণে ব্যান্ড ছাড়ছেন তিনি। মুহূর্তেই সে খবর ছড়িয়ে পড়ে পুরো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে গণমাধ্যমে। ব্যান্ডের অন্যান্য সদস্য ও তুহীনের বক্তব্য নিয়ে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। মান-অভিমানের সাথে চলতে থাকে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগও।
তুহীন আর ব্যান্ডের অন্য সদস্যদের কথা জানার জন্য সবাই কৌতুহলী হয়ে অপেক্ষা করেছে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে যেই ‘শিরোনামহীন’ এর শুরু, ২১ বছর ধরে পথচলায় তৈরি তাঁদের অগণিত ভক্তকুলের প্রতিক্রিয়া আসলে কী রকম? এই ভাঙন কি মেনে নিচ্ছেন তারা? নাকি তারা চাইছেন ফের একসঙ্গে মিলে মিশে এগিয়ে যাক শিরোনামহীন। ব্যান্ডের ভাঙনে তাদের ভক্তদের থেকে এমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। চ্যানেল আই অনলাইন ফেসবুক পেজ, তানযীর তুহীন আর শিরোনামহীন ব্যান্ডের দেয়া ফেইসবুক স্ট্যাটাস ঘেঁটে তাদের ভক্ত-অনুরাগীদের ভাবনা জানাচ্ছেন সারারা মুশাররাত তূর্ণা।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে তুহীনের কিছুদিন বিশ্রামে অন্য ভোকাল নিয়োগকে কেউ কেউ ব্যান্ডের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন ফেসবুক প্রতিক্রিয়ায়। মসিউর বাবর নামক এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘তানযীর তুহীনের শূন্যস্থান অন্য কাউকে দিয়ে পূরণ করার চিন্তা করে থাকলে, সেটা আপনাদের বোকামি। তরকারি লবন ছাড়া যেমন স্বাদহীন, তুহীন ভাই ছাড়া শিরোনামহীন ও বিস্বাদ। তুহীন ভাই শিরোনামহীন কে ছাড়া খুব সহজেই চলতে পারবে কিন্ত শিরোনামহীন কখনো তুহীন ভাইকে ছাড়া চলতে পারবে কিনা তা কিন্তু ভাবনার বিষয়।’
অসুস্থতার মাঝেও কেন তানযীর তুহীনের সাথে নতুন ভোকাল নিয়োগ নিয়ে আলোচনায় বসতে হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। আরও কিছুদিন অপেক্ষা কেন করলেন না ব্যান্ডের অন্য সদস্যরা, তা নিয়েও অভিযোগ তোলেন ভক্তরা। যদিও চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে তুহীনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন ব্যান্ডটির সদস্যদল।

নতুন নাম দিয়ে ব্যান্ড খোলার পরামর্শ দিয়ে শিরোনামহীনের অন্য সদস্যদের উদ্দেশ্য করে এক ভক্ত বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চু ছাড়া যেমন ‘এল আর বি’ চিন্তা করা যায় না, গুরু জেমসকে ছাড়া যেমন ‘নগর বাউল’ হবে না, লিংকনকে ছাড়া যেমন ‘আর্টসেল’ হবে না, তেমনি তুহীন ভাইকে ছাড়াও শিরোনামহীন হবে না। নতুন নাম দিয়ে ব্যান্ড খুলে চেষ্টা করতে পারেন।’
নতুনভাবে শিরোনামহীনের আর কোন শ্রোতা তৈরি হবে না এমন আশংকাও আছে অনেকের মনে। তবে, অভিমানে ব্যান্ড থেকে সরে না এসে আরও কিছুদিন তানযীর তুহীনকে সময় নেয়ার অনুরোধ করেন অনেক ভক্ত। ১৭ বছর যে ব্যান্ডের সাথে ছিলেন, সব ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সেখানেই আবার ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তাকে।
শামছুল আরেফিন তুষার লিখেছেন, ‘আশা করব সব ঠিক হয়ে যাবে। কে প্রতিষ্ঠাতা সেটা বড় নয়। আপনাদের সবার অবদানেই শিরোনামহীন। তাই ভাই-শ্রোতাদের জন্য হলেও দয়া করে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান করুন। প্রিয় ব্যান্ডগুলোর ভাঙন দেখতে চাই না।’
মিরান আহমেদ নামে এক শিরোনামহীন ভক্ত তানযীর তুহীন ও জিয়ার উদ্দেশ্যে লিখেন, ‘জিয়া ভাই যদি না লিখতেন তাহলে তুহীন ভাইয়ের গাওয়া হতো না। তুহীন ভাই না গাইলে হয়তো গানগুলো এত শ্রুতিমধুর শোনাতো না। এই ব্যান্ডে কারো অবদান কে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। জিয়া ভাইয়ের কাছে অনুরোধ দয়া করে এসব প্রশ্ন ছোড়াছুড়ি বন্ধ করুন। আমরা কাউকেই হারাতে চাই না। আপনারা উনার বাসায় যান, উনাকে নিয়ে একসাথে লাইভে আসেন, আমাদেরকে বুঝিয়ে দিন যে আপনারা একটা ফ্যামিলি, আপনারা ভাই ভাই।’
শিরোনামহীন আবারও এক হবে এই প্রত্যাশা জানিয়েছেন অন্যান্য সংগীতশিল্পীরাও। ব্যান্ড সংগীত ভক্তদের প্রিয় ‘শিরোনামহীন’, ‘আবার হাসিমুখ’ এ এক হবে কিনা, নাকি পরিবার ভেঙে আলাদা হয়েই নিজেদের মতো ‘বহুদূর যেতে’ চাইবেন?— এই প্রশ্নের উত্তর এখন কেবল সময়ই দিতে পারবে।








