সকাল ৯টা। ঘাসের ওপরের শিশির বিন্দু ধীরে ধীরে নিজেকে হারিয়ে ফেলছে। গাছের ফাঁকের সোনালী রোদ মাঠে এসে ঠিকরে পড়ছে। সবেমাত্র কুয়াশার চাদরে মোড়ানো প্রকৃতি নিজেকে আলোকসজ্জায় আলোকিত করছে। সেই আলোকচ্ছটায় নিজেদের সিক্ত করতে এক দল জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীর ভীড় বাড়তে থাকে ক্যাম্পাসে।
দেখলে মনে হবে প্রকৃতি যেন তাদের বরণ করতে সব উজার করে দিয়েছে। সোনালী রোদ, কুয়াশা, শিশির বিন্দু, গাছের পাতা নিজেদের উন্মক্ত করে দিয়েছে শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। প্রকৃতির এমন অভ্যর্থনায় জ্ঞানপিপাসুরা এক রঙে রাঙিয়ে আনন্দ মিছিলে একাকার। নাচ গান আর হৈ চৈ এ পুরো ক্যাম্পাস ছিল মুখরিত। চেনা অচেনা মিলন মেলায় প্রকৃতিও এখানে নতি স্বীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালের শুরুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ সেশনের ৬৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ‘ব্যাচ ডে’ উদযাপনের চিত্র ছিল এমনই। ‘অন্যায়কে করে চুরমার, আমরা ৬৪, আমরা দুর্বার’ স্লোগান নিয়ে পথচলা ৬৪তম ব্যাচের। ওইদিন সাবাশ বাংলাদেশ ভাস্কর্যের সামনে ফানুস উড়িয়ে, কেক কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো.জাকারিয়া, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. লায়লা আরজুমান বানু ও প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া বলেন, আজকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৪তম ব্যাচের আনন্দের দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট অর্জন করতেই শিক্ষার্থীরা আসে না। এখানে প্রতিটি স্তরে শেখার আছে। একটি দেশ যেভাবে পরিচালিত হয় তেমনি একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। দেশের অভ্যন্তরে যেমন অনেক শিক্ষনীয় বিষয় থাকে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়েও। নিজেকে গড়ে তোলার সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়কে ধরা হয়। তাই চাইবো এই স্তরকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন তাদের ভবিষ্যৎ পৃথিবী নির্মাণ করতে পারে এবং একই সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখে। 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে একটি র্যালি বের করে প্রথমে বুদ্ধিজীবী শহীদ শামসুজ্জোহা স্যারের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এসময় শিক্ষার্থীরা নাচে-গানে আর আবির খেলায় মেতে উঠে। এরপর ক্যাম্পাস পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি পালন করে ৬৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ব্যাচ ডে উদযাপন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮টি বিভাগের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে।







