মাদারীপুরের সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তী হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার ও পুলিশের রিমান্ডে থাকা ফাইজুল্লাহ ফাহিম পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
শনিবার সকালে জঙ্গি ফাহিমের মৃতদেহ মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। মাদারীপুরের বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মিয়ারচরের অভিযানে ওই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়েছে বলে সাংবাদিকদের পুলিশ জানিয়েছে।
এএসপি মনিরুজ্জামান ফকির বলেন, ফাহিমকে নিয়ে মিয়ারচর গ্রামে অন্য আসামীদের ধরতে ও অস্ত্র উদ্ধারে গেলে তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ফাহিমের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার দুপুরে ওই মামলায় মাদারীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুর রহমান তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। ১৫ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছিল পুলিশ।
ওই শিক্ষকের ওপর হামলায় সরাসরি অংশ নেয় ফাইজুল্লাহ ফাহিম, তাকসিন সামলাম ওরফে সামিল (২০) ও শাহরিয়ার হোসেন পলাশ (২০)। বাকিরা ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করেছিল। মাদারীপুর পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানায়।
ওই সূত্রটি থেকে আরও জানা যায়, তাদের মাদারীপুরে টার্গেট কিলিং শেষ করে অন্য জেলায় একই ধরনের মিশনে যাওয়া কথা ছিল।
হামলার ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে জনতার হাতে আটক গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে এসআই আউব-আলী বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন।
গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের সামনে কলেজের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর নিজ ভাড়া বাসায় হামলা চালায় ৩ জন দুর্বৃত্ত। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।
প্রভাষকের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে পালিয়ে যাওয়ার সময় ফাহিমকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করা হয়।
প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীকে প্রাথমিক চিকিৎকসা শেষে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত।










