চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘সরকারী হাজী আব্দুল বাতেন কলেজ’। দ্বীপের চার লক্ষাধিক মানুষের জন্য একমাত্র সরকারী এ কলেজে বর্তমানে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে ভেঙে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এ কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থা। দাপ্তরিক কাজ করতেও হিমশিম খেতে হয় কলেজ কর্তৃপক্ষকে।
কলেজের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় ০৭ মে ১৯৭৯ সালে কলেজটিকে জাতীয়করণ করা হয়। শুরু থেকেই কলেজটিতে জনবল সংকট থাকলেও বর্তমানে তা চরম আকার ধারণ করেছে।
জানা যায়, বর্তমানে কলেজটিতে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ মোট ৪৮টি পদ থাকলেও এর মধ্যে ৩৬টি পদই শূন্য।
শূন্য পদগুলোর মধ্যে উপাধ্যক্ষের একটি পদ। এছাড়া বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রভাষক মিলে তিনটি পদ শূন্য। ইংরেজি বিভাগে শূন্য দুটি পদ। হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে শূন্য তিনটি করে পদ। অর্থনীতি বিভাগে একটি প্রভাষক পদ শূন্য। ইসলামের ইতিহাস বিভাগে শূন্য চারটি করে পদ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানেও তিনটি পদে কোনো শিক্ষক নেই।
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সব বিভাগে পদ চারটি করে। একজন সহযোগী, একজন সহকারী ও দু’জন প্রভাষক।এছাড়া দর্শনে একটি, পদার্থবিজ্ঞানে একটি, রসায়নে দুটি, প্রাণিবিদ্যায় একটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের চারজন প্রদর্শক, লাইব্রেরিয়ান, শরীরচর্চা শিক্ষক, প্রধান সহকারী ও হিসাব সহকারীসহ আরো ৩৬টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য।
এই কলেজে মোট ১ হাজার ২৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এ উপজেলায় আরও পাঁচটি বেসরকারি কলেজ রয়েছে। মুস্তাফিজুর রহমান ডিগ্রী কলেজ অনার্স রয়েছে ব্যবস্থাপনায়, সরকারি হাজী আব্দুল বাতেন কলেজ বাংলায়। অনার্স পর্যায়ের কোনো শিক্ষক নেই।
ফলে এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য এ কলেজে আরও কয়েকটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে ওই কার্যক্রমের ৬০ শতাংশ কাজ শেষও হয়েছে। কিন্তু শিক্ষকসহ নানা সংকট থাকায় অনার্স কোর্স চালু করতে চাইলেও বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ।
কলেজটির একাধিক শিক্ষক জানান, একদিকে শিক্ষক সংকট, অন্যদিকে কলেজে তাদের জন্য কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই। ফলে যারা কর্মরত আছেন, তারাও এখানে থাকতে অপারগতা প্রকাশ করছেন।
মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন,শিক্ষক সংকট ব্যাপক, একাদশ মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে আসন সংখ্যা বাড়িয়েছে ১৫০ থেকে ২৫০জন। সেকশনও নেই, ক্লাসরুমও নেই।প্রচন্ড গরমে বা বৃষ্টিতে ক্লাস সম্ভব হয় না। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য কোনো ল্যাবরেটরি নেই। কলেজের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে কয়েকটি ল্যাপটপ দেয়া হলেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলোও কাজে আসছে না।
কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, কলেজে কোনো ছাত্রাবাস না থাকায় অনেককে কষ্ট করে আসাতে হয়। প্রতিদিন ছয়টি বিষয়ে পাঠদান হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক না থাকায় এক-দুটি বিষয়ে পাঠদান হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, কলেজটি বেশ পুরনো হলেও গত বছর এখান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩৭ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছে। এজন্য তারা কলেজটির শিক্ষক সংকটসহ অন্যান্য কারণকে দায়ী করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর ফজলুল করিম নানা সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, মাসিক প্রতিবেদনে সব সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও খুব একটা লাভ হচ্ছে না। কলেজে শিক্ষাসংকট দূর করতে উর্ধ্বতন প্রশাসন ও স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।








