বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মো. শাহ আলমগীরের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।
এক শোক বার্তায় এ উপাচার্য বলেন, শাহ আলমগীরের প্রয়াণে সংবাদ মাধ্যম এবং সাংবাদিকতা জগতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান সাংবাদিক।
অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম, নতুন প্রজন্মের সংবাদকর্মীদের কাছে তিনি সত্য, ন্যায়-নিষ্ঠ এবং আদর্শবান সাংবাদিক হিসেবে অনুসরণীয় হয়ে থাকবেন।
তিনি প্রয়াত শাহ আলমগীরের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহ আলমগীরের মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
হঠাৎ তার রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে অসুস্থ হয়ে সিএমএইচে ভর্তি হন পরদিন তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসার জন্য ছয় সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছিল।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা শাহ আলমগীর ২০১৩ সালের ৭ জুলাই পিআইবির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান।
পিআইবির প্রধানের দায়িত্ব ছাড়াও শাহ আলমগীর বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ৩৫ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি একাধিক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পিআইবিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি সর্বশেষ এশিয়ান টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
উপমহাদেশের প্রথম শিশু-কিশোর সাপ্তাহিক কিশোর বাংলা পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে শাহ আলমগীরের সাংবাদিকতা জীবন শুরু। এরপর তিনি কাজ করেন দৈনিক জনতা, বাংলার বাণী, আজাদ ও সংবাদে। প্রথম আলো প্রকাশের সময় থেকেই তিনি পত্রিকাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত যুগ্ম বার্তা-সম্পাদদের দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর তিনি টেলিভিশনে কাজ শুরু করেন। চ্যানেল আই’তে প্রধান বার্তা সম্পাদক, একুশে টেলিভিশনে হেড অব নিউজ, যমুনা টেলিভিশনে পরিচালক (বার্তা) এবং মাছরাঙা টেলিভিশনে বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার-২০০৬, ‘চন্দ্রাবতী স্বর্ণপদক-২০০৫’, ‘রোটারি ঢাকা সাউথ ভোকেশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০০৪’ এবং ‘কুমিল্লা যুব সমিতি অ্যাওয়ার্ড-২০০৪’ পেয়েছেন।








