পালাবদলের মধ্যে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে আরো দুটি নতুন মুখের দেখা মিলছে। যার একটি কাইল হোপ, নামটির দিকে যেকারো চোখ আটকে যাবে। ক্যারিবীয় দলে আগে থেকেই যে আছেন কাইলের ছোট ভাই শাই হোপ। ভারতের বিপক্ষে শেষ তিন ওয়ানডের দলে কাইলের সঙ্গে অন্য নতুন মুখ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান সুনিল আমব্রিস।
ক্রিকেটে দুই ভাইয়ের একইসঙ্গে খেলার ঘটনা নতুন নয়। একসঙ্গে খেলেছেন জমজ দুই ভাইও। যার মধ্যে দুই অস্ট্রেলীয় গ্রেট স্টিভ ওয়াহ ও মার্ক ওয়াহর নাম ওপরের দিকেই থাকবে। এই দুই ভাইয়ের অজি জার্সি পরে একসঙ্গে নামার আগের একটি গল্পও বিখ্যাত হয়ে আছে।
স্টিভ ওয়াহ ততদিনে অনেকগুলো ম্যাচ খেলে ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে। মার্ক ওয়াহ তখনো ডাকের অপেক্ষায়। একসময় ডাকও আসে। সেই সুসংবাদটি আবার বয়ে নিয়ে আসেন খোদ স্টিভ। বাড়িতে তখন উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। মার্ক অস্ট্রেলিয়া দলে খেলবে। স্টিভ অপেক্ষা করেন। কিছু সময় গড়ালে আমতা আমতা করে বলেন মার্ক ডাক পেয়েছে, তবে আমার জায়গায়; আমি বাদ পড়েছি।
সেই বাদ পড়া অবশ্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরে দুভাই একসঙ্গে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তাবৎ ক্রিকেট বিশ্ব। বর্তমানে ৫২ বছর ২৬ দিন বয়স হওয়া দুই বিখ্যাত অজি ভাইয়ের ম্যাচ সংখ্যার যোগফল ২৯৬টি টেস্ট ও ৫৭৯টি ওয়ানডে।

সেইদিক থেকে শাই হোপ ও কাইল হোপের গল্পটা একটু ভিন্ন, স্টিভ-মার্কের মত হতে হতেও হয়নি। তবে হতে পারত। বড় ভাইকে দলে ডাক পাওয়ার খবরটি যে নিজের বাদ পড়ার খবরের সঙ্গেই দিতে হত তাকে। গত কিছুদিন ক্যারিবীয় জার্সিতে শাইয়ের পারফরম্যান্স একান্তই খারাপ নয়, আবার খুব উথাল-পাথালও নয়।
নির্বাচকদের বিকল্প ভাবনা অনেকদূর এগিয়েছিল। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান শাইয়ের বিকল্প রাখতে আরেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান সুনিল আমব্রিসকে যে কাইলের সঙ্গেই স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেটিই ইঙ্গিত দেয় শাইয়ের জায়গাটি শক্তপোক্ত নয়। কিন্তু গত পাঁচ ম্যাচের মধ্যে শেষ ম্যাচেই ৮১ রানের একটি ইনিংস খেলে নিজের জায়গাটি ধরে রাখতে পেরেছেন ২৩ বর্ষী শাই। বড় ভাইয়ের ডাক পাওয়ার দিনে তাই তাকে আর মন খারাপ করে থাকতে হয়নি।
ছোট ভাই শাই যখন টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে ২৫টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন, তখন প্রথমবার ডাক পেলেন কাইল হোপ। কাইলের জন্য তাই আগাগোড়াই খুশির সংবাদ এটি। ২৮ বছর বয়সে এসে প্রথমবার জাতীয় দলের দরজা খুলল। ভাইয়ের মতই ডানহাতি ব্যাটসম্যান তিনি। ব্যাট করেন মিডলঅর্ডারে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে কাইল ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের হয়ে গত শ্রীলঙ্কা সফরে একটি সেঞ্চুরি ও ৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। চলতি মৌসুমে ঘরোয়ায় চার দিনের ম্যাচের টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৪৯ রান করেছেন। নির্বাচকরা তাই আর উপেক্ষা করতে পারলেন না।
শেষ তিন ওয়ানডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল
জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), সুনিল আমব্রিস, দেবেন্দ্র বিশু, রোস্টন চেইজ, মিগুয়েল কামিন্স, কাইল হোপ, শাই হোপ, আলজারি জোসেফ, এভিন লুইস, জেসন মোহাম্মেদ, অ্যাশলে নার্স, কাইরন পাওয়েল, রোভম্যান পাওয়েল।








