প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপন করলো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নবকুমার ইন্সটিউশন। শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে স্কুলটির সাবেক শিক্ষার্থীরা নানা ক্ষেত্রে শীর্ষে আছেন তারা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীদের মুখস্থ বিদ্যা থেকে বেরিয়ে এসে বই পড়ার অভ্যাস গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শত বছরের পথ চলায় সারাদেশে পরিচিত এক নাম ঢাকার নবকুমার ইন্সটিটিউশন। বিশেষ করে ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে এ স্কুলের শিক্ষার্থী মতিউরের আত্মত্যাগ বিদ্যালয়টিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শহীদ মতিউর এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শতবর্ষ উদযাপনের দিনব্যাপি আয়োজন। এ স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন এ রকম অনেকে রাজনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা বলেন, স্কুলে সবসময় প্রথম হয়েছি এবং ক্যাপ্টেন থেকেছি, এ কারণের একটু মাতবারি মাতবারিভাব তখনই ছিলো। অনুষ্ঠানে উঠে আসে এখনকার শুধু সিলেবাস বা নোটনির্ভর মুখস্থবিদ্যা শিক্ষার অভ্যাসের কথা। এ বিষয়ে পরামর্শমূলক মতামত তুলে ধরেন বিশিষ্টজনেরা।
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রছাত্রীদের সত্যিকারের পরিচয় জানতে হবে। ইাতহাস জানতে হবে। আমাদের সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং শিক্ষকদের সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর খালেদা ইকরাম বলেন, বর্তমান শিক্ষার্থীরা শূধু শর্টকার্ট বেছে নেয়। পুরো বই পড়ে যা শেখা যাবে শর্টকার্টে তা শেখা যাবে না।
অতিথিরা বলেন, ঐতিহ্যবাহী নবকুমার ইন্সটিটিউশনের কাছে দেশের প্রত্যাশা অনেক। এমিরেটাস অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, যদিও মানুষ গড়ার কারিগরের কথা বলা হয়েছে। আমরা তো ঠিক মানুষ গড়ার কারিগর গড়ি না শুধু পরীক্ষা পাশের যন্ত্র গড়ি।
তিনি আরো বলেন, আমদের সেই চেষ্টাটা করতে হবে যাতে ছাত্ররা বই মুখস্থ করে পাস না করে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেন, নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের নিজেদেরকে সেইভাবে তৈরি করতে হবে।
নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয় নবকুমার ইন্সটিটিউশনের শতবর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান থেকে।






