আগামী পরশু মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘শঙ্খচিল’। আজ মঙ্গলবার হয়ে গেলো তার প্রিমিয়ার শো। এতে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন দুই বাংলার তুমুল জনপ্রিয় নায়ক বুম্বাদা।
ঢাকায় এসেই প্রসেনজিৎ বলে ফেললেন, বাংলাদেশে আসলে আমি কখনোই মনে করি না
অন্য দেশে এসেছি। আমার কাছে বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গ এক। কারণ সেখানে থেকে
আসার সময় বুম্বাদা শুনে আসি আর এখানে এসেও বুম্বাদা শুনি। আসলে দু’দেশই
আমার এক দেশ।
বিখ্যাত পরিচালক গৌতম ঘোষের ‘মনের মানুষ’ থেকে ‘শঙ্খচিল’ পুরোটা জার্নিতে ছিলেন প্রসেনজিৎ। তাই ‘শঙ্খচিল’ নিয়ে অনেকটা আবেগ-আপ্লুত কলকাতার টপ মোস্ট হিরো সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস মিটে জানালেন ‘শঙ্খচিল’ নিয়ে তার না বলা অনেক কথা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই এদেশের দর্শকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বুম্বাদা বলেন, ‘লাস্ট পাঁচ বছর ধরে পশ্চিম বাংলা আর বাংলাদেশ আলাদা মনে হয় না। কারণ যৌথ প্রযোজনার ছবি করতে যেয়ে দু’দেশেই অনেক দৌঁড়ঝাপ করতে হয়েছে আমাকে।’
‘তাই প্রথমেই বলি ‘শঙ্খচিল’ ছবিটির দৃশ্যধারণ করা হয়েছে সাতক্ষীরায়। আমি কলকাতায় যেখানে থাকি; সেখান থেকে সাতক্ষীরায় যেতে লাগে মাত্র তিনঘণ্টা। আমি গাড়ি করেই সেখানে চলে যেতাম। সেখানকার মানুষ আমাকে যেভাবে গ্রহণ করেছে, আমাকে যেভাবে ভালোবাসা দিয়েছে তাতে সত্যিই আমি মুগ্ধ।’
কোনো দেশের সীমান্ত অভিনয়ের জন্য বাধা হতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তখন শুধু আমার একটি কথাই মনে হতো কাঁটাতার দিয়ে কোনো অভিনেতাকে বেঁধে রাখা যায় না। সে সবার ভালোবাসার পাওয়ার অধিকার রাখে।’
‘শঙ্খচিল’ ছবিতে কোনো মজার অভিজ্ঞতা আছে কিনা জানতে চাইলে প্রসেনজিৎ বলেন, আমার মজার অভিজ্ঞতা হলো ছবিতে আমার মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছে বাংলাদেশের মেয়ে সাঝঁবাতি। ছবিটি যখন ট্রেইলর প্রকাশ পায়, তখন সবাই বলতে লাগলো সাঝঁবাতি নাকি আমার মেয়ে। আসলে আমিও মনে করি সাঝঁবাতি আমারই মেয়ে। বাবার ভূমিকায় অভিনয় করতে গিয়ে ওকে মেয়ে বানিয়ে ফেলেছি। আর ও আমাকে বাবা বানিয়েছে। এখন বাবা-মেয়ের সবসময় দেখা না হলেও আমার সব পছন্দের জিনিস ও আমাকে কিনে দেয়। আর ওর সব পছন্দের জিনিস কিনে দেই। বাবার কাছে লাস্ট একটা আবদার করছিলো মোবাইল ফোনসেট। কিন্তু এখন তা সম্ভব নয়; বয়স হোক অবশ্যই কিনে দিবো।
‘আসলে এখন বলতে খুব ভালো লাগছে এতোদিন আমি ছেলের বাবা ছিলাম আর ‘শঙ্খচিল’র মাধ্যমে মেয়ের বাবাও হয়ে গেলাম।
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও আর্শীবাদ চলচ্চিত্র প্রযোজিত ছবিতে প্রসেনজিতের বিপরীতে কাজ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কুসুম শিকদার।
এ ছবিতে কেমন কাজ করেছেন কুসুম-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রসেনজিৎ বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয় কলকাতার যেকোনো অভিনেত্রীও আমার সঙ্গে কাজ করতে গেলে একটু ভয়ে থাকে, আর কুসুমের ক্ষেত্রে তা খুব বেশি ছিলো। ওর সঙ্গে শুটিং সেটে যেদিন আমার প্রথম দেখা হলো, আমি ওকে সোজাসোজি বললাম তোকে আমি ‘তুমি’ বলতে পারবো না আমি কিন্তু ‘তুই’ বলবো।
আসলে ওর কাছ থেকে সাবলীল কাজটুকু বের করার জন্য সবসময় ওর সঙ্গে সহজ ও স্বাভাবিক সর্ম্পক রেখেছি। আমার স্ত্রীর ভূমিকাটি সত্যি আসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে কুসুম। তাছাড়া গৌতম দাতো বন্ধুর মতো সবসময় সবার কাছে ছাঁয়ার মতো থাকতেন।

ছবি মুক্তির আগেই এরইমধ্যে ভারতীয় চলচ্চিত্রে সেরা বাংলা পুরস্কার জিতে নেওয়া ‘শঙ্খচিল’ কলকাতায় কেমন সাড়া ফেলেছে? জানতে চাইলে ‘অটোগ্রাফ’ খ্যাত এ নায়কের উত্তর ‘আসলে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগেই দর্শকদের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। গত দু’দিন আগে আমার নিজ উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলাম ‘শঙ্খচিল’ সিনেমাটি দেখবার জন্য।
তারা ছবিটি দেখে শুধু একটি কথাই বলেছেন, ‘ছবি আসলে ছবির জন্য নয়, একটি ছবি দুই দেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পেরে সেটার প্রমাণ ‘শঙ্খচিল’।
দেশভাগের ওপর নির্মিত ছবি ‘শঙ্খচিল’ করতে যেয়ে নিজেকে ভাঙ্গতে হয়েছে কিনা জানতে তিনি বলেন, প্রথমেই বলতে চাই ছবিটি দেশভাগ নিয়ে নির্মিত হয়নি। হ্যাঁ দেশভাগের কিছু ঘটনা প্রাসঙ্গিকভাবে ফুটে উঠেছে। গল্পটি পুরোপুরি মানবীয় ও আবেগে জড়ানো। যে ঘটনা সীমান্তে থাকা কোনো না কেনো পরিবারের সঙ্গে ঘটে থাকে।

তবে হ্যাঁ, ছবিটির জন্য নিজেকে অনেক পড়াশোনা করতে হয়েছে। দেশভাগ নিয়ে অনেক বই পড়তে হয়েছে। অনেক কবিতা পড়তে হয়েছে। কারণ মাস্টারের ভূমিকায় অভিনয় করেছি অনেক সময় কোনো সংলাপ ছাড়াই কবিতা বলে বুঝাতে হয়েছে সেই আবেগের কথা।
যৌথ প্রযোজনার সিনেমায় দুই দেশে কতোটুকু সফলতা বয়ে আনবে এমন প্রশ্নে প্রসেনজিৎ বলেন, দেখুন আপনি নিজের দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে পাসপোর্ট ভিসা সব লাগবে কিন্তু সিনেমা হলো এমন একটি মাধ্যম যেখানে তাকে আটকানো যায় না। যৌথ প্রযোজনার সবকিছুই ঠিক আছে, শুধু পরিবর্তন আনতে হবে দু’দেশের বাণিজ্যিক দিকগুলোতে। দু’দেশেই যদি একইভাবে সিনেমার বাণিজ্যিকীকরণ করা যায় তাহলে দু’দেশের সিনেমা আরো বেশি শক্তিশালী হবে।
ছবিটি আগামী ১৩ এপ্রিল কলকাতায় এবং পরেরদির ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশে মুক্তি পাবে।







