চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

পহেলা বৈশাখঃ উৎসব ও ইলিশ বিতর্ক

সায়েদুল আরেফিন সায়েদুল আরেফিন
৫:১১ অপরাহ্ণ ১২, এপ্রিল ২০১৬
মতামত
A A

পহেলা বৈশাখে পান্তা ইলিশ খাবে কি খাবে না তা নিয়ে খুব বিতর্ক চলছে এখন। কারণ আমরা জেনেছি এখন ইলিশের প্রজনন মৌসুম। তাই ইলিশ না ধরলে পরের বছর ইলিশের ফলন ভালো হবে। পত্রিকা আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তো বেশ জোরেই আলোচনা হচ্ছে পান্তা-ইলিশ নিয়ে। কেউ বলছেন খাওয়া বড় কথা নয়, বৈশাখের চেতনাটাই মুখ্য। কেউ বলছেন মাটির সানকিতে কেন পান্তা খাবো ইলিশ বা শুটকী ভর্তা দিয়ে? এটা কি ঢং করা নয় কি!

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, তখন মোগল সম্রাট আকবরের আমল। খাজনা সহ অন্যান্য কর আদায়ে নানা সমস্যা, প্রজারা পারেন না খাজনা দিতে। সম্রাটও সব খবর জেনে কঠোর হতে পারেন না খাজনা আদায়ে। কারণ খাজনা আদায়ের সেই সময় প্রজাদের হাতে অর্থ নেই। কৃষিভিত্তিক সমাজ তাই ফসল উঠার মৌসুম খাজনা আদায়ের সময় নির্ধারণ করা ভালো হবে ভেবে চিন্তা শুরু করলেন সম্রাট আকবর ও তাঁর সভাসদগণ। অনেক হিসাব নিকাশ করে ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ মার্চ বা ১১ মার্চ থেকে ফসলী সন হিসেবে এই বাংলা সন চালু করা হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ফসলি সন বলা হলেও পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত লাভ হয়। আকবরের সময়কাল থেকেই শুরু হয় পহেলা বৈশাখ উদযাপন। তখন প্রজাদের প্রত্যেককে চৈত্র মাসের শেষ দিনের (চৈত্র সংক্রান্তি) মধ্যে সকল খাজনা ও অন্যান্য কর পরিশোধ করতে হতো।

‘বাংলা পঞ্জিকা একটি চান্দ্র-সৌর ভিত্তিক পঞ্জিকা। তারিখ নির্ধারণ করা হয় সূর্যের বিভিন্ন রাশিতে প্রবেশের পরের দিন থেকে। তিথি, নক্ষত্র, করণ, যোগ নির্ণয় করা হয় চন্দ্র ও সূর্যের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে। বাংলা পঞ্জিকার তারিখ ২ ভাবে গননা করা হয়, যথা ১. সূর্য সিদ্ধান্ত (প্রাচীন সিদ্ধান্ত) ও ২. দৃক সিদ্ধান্ত (বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত) সূত্রানুসারে। উভয় সিদ্ধান্তের একটি মিল হল। সূর্য যেদিন কোন রাশিতে রাত্র ১২টার মধ্যে প্রবেশ করে পরের দিন বাংলা পঞ্জিকায় নতুন মাসের ১ম দিন হয়, না হলে ১ দিন পরে বাংলা মাস শুরু হয়। তাই ইদানিং কালে বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে কখনও ১৪ এপ্রিল কখনও ১৫ এপ্রিল ১ বৈশাখ হয়ে থাকে’। আমাদের দেশে ১ বৈশাখ ধরা হয় ১৪ এপ্রিল।

আমরা শৈশবে দেখেছি চৈত্র সংক্রান্তিতে হতো গ্রামীণ উৎসব। কয়েক দিনের দুধ জমিয়ে রেখে নানা ধরণের পিঠা পায়েস বানিয়ে তা বিলি করা হতো। ধানের পোয়াল (খড়) দিয়ে দড়ি বানিয়ে মঙ্গল কামনা করে ধুপ-ধুনো দিয়ে গাছে গাছে বেঁধে দেওয়া হতো যেন পরের বছর ভালো ফলন হয়। ভালো ফসলের জন্যও নানা অনুষ্ঠান করা হ’তো। ভালো খাবারের আয়োজন হতো চৈত্র সংক্রান্তিতে, ভাবটা এমন যে, ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তাঁর’। আবার বছরের শুরুর দিনের হালখাতার প্রস্তুতিও চলতো, পহেলা বৈশাখেও খাবার ছিল ভালো। তাই প্রাচীন বাংলায় মানে অবিভক্ত বাংলার কোনো কোনো এলাকায় চৈত্র সংক্রান্তি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতো যা প্রলম্বিত হয়ে বৈশাখেও চলে আসতো। গান, বাজনা, খেলাধুলার মতো কিছু বিনোদনের আয়োজনও থাকতো এই উপলক্ষ্যে। পরে আবার কোন কোন এলাকায় ১ লা বৈশাখে ব্যবসায়িরাও হালখাতা করতেন। নতুন বছরে নতুন খাতা খুলতেন হিসেবের। সেই অনুষ্ঠানে কিছু মিষ্টি জাতীয় হাল্কা খাবার, যেমন- জিলাপী, পরিবেশন করা হতো আগত অতিথীদের মাঝে, কিন্তু কখনো তাঁরা পান্তা ইলিশ খেতে দিতেন না। বাংলার অধিকাংশ গ্রামে পান্তা খাওয়া হতো পিয়াঁজ-মরিচ সাথে লবন দিয়ে, ইলিশ ছিল না সেখানে। বিশেষ করে- এখন যেখানে ইলিশ পাওয়া যায় সেইসব এলাকা বাদে বাকী এলাকায় ইলিশ ছিল দুস্প্রাপ্য মাছ। ছোট্ট এক টুকরা ইলিশ মাছের সাথে এক চামচ ঝোল দিয়ে লবন মেখে এক মাটির সানকি (মাটির থালা) ভাত খেয়ে নিতেন এসব উচু এলাকার মানুষ।

নগারায়ণ শুরু হলে মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ কাজের জন্য শহরে আসেন। কিন্তু তাঁদের নাড়ির টান রয়ে যায় শৈশবের স্মৃতি ঘেরা গ্রামে, গ্রামকে তাঁরা খুব মিস করতে লাগলেন। তাঁদের আর্থিক সঙ্গতি বাড়ার সাথে সাথে ১লা বৈশাখের আসল চরিত্র পাল্টে যেতে লাগলো, আস্তে আস্তে তা উৎসবের অনুষ্ঠানে মোড় নিতে থাকলো। যেমনভাবে হোলি ছিল ভালো ফসলের জন্য প্রার্থনার অনুষ্ঠান, কিন্তু এখন সেটা উৎসব। দিনে দিনে এই হোলি উৎসবের চরিত্র বদলে যাচ্ছে, হচ্ছে সর্বজনীন। এই হোলি উৎসবের চরিত্র আরও যে বদলে যাবে লক্ষণ দেখে তাই মনে হচ্ছে।

‘১৯১৭ সালে প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্ত্তণ ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরপর ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ কর্মকান্ডের উল্লেখ পাওয়া যায় কোনো কোনো লেখায়। তবে ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ বাংলা ১৩৭১ সালের ১লা বৈশাখ রমনার বটমূলে ছায়ানট বাংলা নববর্ষ পালন শুরু করে এই বাংলায় বেশ ঘটা করে। এই উপলক্ষ্যে মেলা শুরু হয়। আর মেলায় আগতদের মাঝে নানা ধরণের খাবার বিক্রির প্রচলন হয়। বৈশাখে অনেক গরম, আর গরমের দিনে বাসায় বেঁচে যাওয়া ভাত পানি দিয়ে রাখা হতো। তা না হলে তা পচে যেতো (তখন ফ্রিজ ছিল না, গ্রামে তো ছিলই না)। এই পানি ভাত খেলে শরীর মানে পেট খুব ঠান্ডা মনে হয়। তাই মেলায় প্রাচীন বাংলার মাটির সানকিতে, লবন সহযোগে পিয়াজ মরিচ দিয়ে পান্তা খাওয়া / বিক্রি করা শুরু হ’লো, অনুষ্ঠানে গ্রামীণ আমেজ দিতে। পরে হয়তো ক্রেতার চাহিদা মেটাতে অথবা বেশী বিক্রির আশায় খাবারের মেনুতে নতুনত্ব আনতে ধীরে ধীরে এই পান্তার সাথে ইলিশ ও অন্যান্য তরকারী, ভর্তা যোগ হতে শুরু করে।

Reneta

আচরণই চেতনার বহিঃপ্রকাশ। মানুষ তাঁর আচার আচরণে তাঁর মনের ভাব প্রকাশ করেন। মা’কে জড়িয়ে ধরে বা চুমু দিয়ে মা’কে বুঝিয়ে দিই যে তাঁকে ভালোবাসি। প্রেমিকাকে ফুল দিয়ে আমরা প্রকাশ করি আমাদের ভালোবাসা। বন্ধু স্বজনদের নিজের বাসায় দাওয়াত করে কিংবা বিভিন্ন স্থানে মিলিত হয়ে প্রকাশ করি যে, আমরা ভালো বন্ধু, আপনজন। ভালোবাসা বা হৃদয়ের আকুতি প্রকাশের উছিলা তো লাগবেই। কোনো কিছু করা যথেষ্ট নয়, আমাদের চেতনা বা বিশ্বাসকে অন্যের মাঝে সঞ্চারিত করতে আমরা নানা উপায় অবলম্বন করে থাকি। বাংলাকে ভালোবাসার প্রকাশ তাই পহেলা বৈশাখের উৎসব হ’লে কি তাতে দোষের কিছু হবে!

ইদানিং পহেলা বৈশাখের উৎসব বর্ণিল হয়েছে আর অনেক। খাওয়া আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বাইরে আরো অনেক উপাদান যোগ হয়েছে এতে। গ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে তা’ ছড়িয়ে পড়েছে। এখানেই শেষ হয়নি তার যাত্রা, এই উৎসব এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বাইরেও ব্যাপ্তি লাভ করেছে। হয়ে উঠেছে সার্বজনীন উৎসব। আগামীতে এই উৎসবের চরিত্রের যে আরও পরিবর্তিত হবে তার লক্ষণও সুস্পষ্ট। সেখানে ইলিশ থাকবে কি না, তা এখন বলা যাবে না। সময় বলে দেবে। খাজনা আদায়ের জন্য যে বাংলা সন শুরু তা’ যদি চরিত্র বদল করে উৎসব হয় তাহলে বর্তমান পহেলা বৈশাখের চরিত্র যে বদলাবে না তাঁর গ্যারান্টি কে দেবে? তবে এটা নিশ্চিত বলা যায়, আনন্দের জন্য, পাণের সাথে প্রাণের মিলনের জন্য উৎসবের মৃত্যু হবে না, এর কলেবর আর বাড়বে বই কমবে না, এমন আশা করাই যায়।
(তথ্যঋণ: উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট)।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: পহেলা বৈশাখ
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

ফিক্সিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী তারকা

জুলাই ১৭, ২০২৬

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী নয়, ফাইনাল খেলতে চায় ইংল্যান্ড-ফ্রান্স: টুখেল

জুলাই ১৭, ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালে আবহাওয়া নিয়ে কোন শঙ্কা নেই

জুলাই ১৭, ২০২৬

ক্যারিবীয় কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স মারা গেছেন

জুলাই ১৭, ২০২৬

জোয়ারের পানিতে ভাসছে মনপুরার কলোনি, টিনের চালে আশ্রয় বাসিন্দাদের!

জুলাই ১৭, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT