আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল-হারিরি পদত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ করছে ইরান। ইরান এবং হিজবুল্লাহকে অভিযুক্ত করে পদত্যাগের ঘোষণার পর থেকেই ইরানি রাজনীতিকরা সাদের সিদ্ধান্তের নিন্দা শুরু করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা হুসেইন শেখ আল-ইসলামের দাবি, এই পদত্যাগ সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হাত রয়েছে।
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনামাফিক হারিরি পদত্যাগ করেছেন,’ বলেন তিনি।
এর আগে শনিবার সৌদি আরব থেকে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে সাদ আল-হারিরি প্রাণনাশের আশঙ্কায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ইরান ও তাদের মিত্র লেবাননের হিজবুল্লাহ তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে তিনি ইরানের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, লেবাননসহ বেশ কয়েকটি দেশে ইরান ‘ভীতি আর ধ্বংস’ ছড়াচ্ছে।
সাদের বাবা রফিক আল-হারিরিও লেবাননের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৫ সালে তাকে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনা স্মরণে করিয়ে দিয়ে সাদ বলেন, ‘আমরা সেই পরিবেশে বসবাস করছি, যেমনটি ছিল আমার বাবাকে হত্যার আগে। আমাকেও হত্যার ছক আঁকা হয়েছে।’
স্থানীয় সাংবাদিকদের তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী সাদের হঠাৎ চলে যাওয়ার ফলে লেবানন নতুন এক রাজনৈতিক সংকটে পড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর মধ্য দিয়ে শিয়া ক্ষমতাধীন ইরান এবং সুন্নি শাসিত সৌদি আরবের মধ্যে চলমান ঠাণ্ডা আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
সাদ আল-হারিরির পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরবের সখ্যতা রয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত লেবাননের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। বর্তমান মেয়াদে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে সাদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।








