আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষকদেরকে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “ক্লাস বন্ধ করে আন্দোলন করলে ছাত্র-ছাত্রীরাও তা মেনে নেবে না; ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করে সম্মান আদায়ের চেষ্টা শিক্ষকদের জন্য মানায় না।”
সোমবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভার এক পর্যায়ে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে ভাবছে সরকার। কিন্তু সেটা চাইতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যা করাটা কোনোভাবেই সমর্থন করেন না।’
শিক্ষকদের সমালোচনা করে এ সময় শেখ হাসিনা বলেন,‘শিক্ষক হিসেবেই আপনারা সম্মান পান, তাহলে সচিবের মর্যাদা কেনো চান? যদি সেটাই চান তাহলেশিক্ষকতা ছেড়ে সচিবের চাকরি নিন। তাদের চাকরির বয়স ৫৯ বছর পর্যন্ত আপনাদেরও সেটা তাহলেকমিয়ে আনা হোক। আপনাদের দাবির কথাও আমরা আলোচনা করছি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাবন্ধ করে আন্দোলন চালাবেন সেটা কেউই মেনে নেবেন না।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তান প্রেমের কারণে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন। উনার দিল মে হ্যায় পেয়ারে পাকিস্তান।”
একাত্তরে পাকিস্তানের দোসরদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার জন্য জিয়াউর রহমানকেই দায়ী করে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ২৪ দিন পর পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।”
বিডিআর বিদ্রোহে খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “একদিন এই ষড়যন্ত্রেরও বিচার হবে।” বিডিয়ার বিদ্রোহ শুরু হওয়ার আগে তিনি তার ক্যান্টনমেন্টের বাসায় ছিলেন আর বিডিয়ার বিদ্রোহ শুরু হতেই তিনি সন্ধ্যা নাগাদ বাসা ছেড়ে চলে গেলেন আন্ডারগ্রাউন্ডে। এর কারণ কী।”
মেট্রোরেলের বিয়য়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘উত্তরাথেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসে যেতে সময় লাগবে মাত্র ত্রিশ মিনিট। এখন জ্যামে বসে সময়কাটাতে চান নাকি খুবই কম সময়ে জ্যাম ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছাতে চান? তাছাড়া যেসব জায়গায়মেট্রোরেলের রুট যাবে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে সেখানে শব্দনিরোধক রাখা হবে। যাতে কারোতেমন কষ্ট না হয়।’
‘কিন্তু দেশের উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় বাধা দেবেন না। আপনারা যেনসহজে ক্লাসে আসতে পারেন বা ক্লাস শেষ করে সহজেই আবার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন সেই জন্যইএই ব্যবস্থা করা আর আপনারাই কিনা এর বিরোধিতা করছেন। ওই যে কথায় বলে না, যার জন্য করিচুরি সেই বলে চোর।’
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা টেনে তিনি বলেন, ‘রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রনির্মাণে সবাই বিরোধিতা করেন কিন্তু যখন বলি গিয়ে দেখে আসুন, কি তৈরি হচ্ছে। তখন আরকেউ যায় না।’
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল ঘরে আলো জ্বলবে।”আজকাল দেশে আর কেউ বেকার নেই, খাদ্য নিরাপত্তা তৈরি করেছি আমরা,যেসব ছেলেমেয়েরা বিদেশে যাচ্ছে তাদের ঠিকঠাক ট্রেনিং দিয়ে পাঠাচ্ছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে পর্যাপ্ত। দেশ এখন উন্নয়নেরদিকে এগোচ্ছে।
এই উন্নয়নে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি বলেন, “কেবল খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, পুষ্টির নিরাপত্তারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”







