বিশ্বকাপের ড্র হওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা হয়তো অনেক অঙ্কই কষেছিলেন। তাদের হিসেব অনুযায়ী ১০ জুলাই সেন্ট পিটার্সবার্গে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ফুটবল বিশ্বের দুই জায়ান্ট ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার। কিন্তু হিসেবের সেই খাতা উল্টে সরল অঙ্ক।বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মঙ্গলবার মুখোমুখি বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে ছিটকে দেয়া দুই দল ফ্রান্স-বেলজিয়াম। সব অঙ্ক সরিয়ে সেন্ট পিটার্সবার্গে লাল বনাম নীলের লড়াই।
দুই ইউরোপীয় শক্তির লড়াই। বেলজিয়াম ফুটবলের ‘সোনালি প্রজন্মের’ সঙ্গে ফ্রান্সের ফুটবল ‘নবজাগরণের’ লড়াই।
অনেকের মতে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটাই হতে যাচ্ছে এটি। তাই হয়তো এই ম্যাচ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন না কেউ। সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই। প্রায় সমান-সমান শক্তি দুই দলের। একদিকে ফ্রান্সের কাইলিয়ান এমবাপে, অ্যান্থনিও গ্রিজম্যান,পল পগবাদের পারফরম্যান্সে দেখা যাচ্ছে বিশ্বজয়ের রং।
অন্যদিকে বেলজিয়ামের এডিন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইন, রোমেলু লুকাকুরা রং ছড়িয়েছেন বিশ্বকাপে।
বেলজিয়ামের ‘সোনালি প্রজন্মের’ স্বপ্নপূরণের ভার এখন রবের্তো মার্টিনেজের হাতে। তার সঙ্গে আছেন ফ্রান্স কিংবদন্তি থিয়েরি হেনরি অঁরিও। আর ফরাসি ফুটবলের নবজাগরণ ঘটেছে ‘১৯৯৮ বিশ্বজয়ী ফ্রান্স দলের অধিনায়ক দিদিয়ের দেশমের হাত ধরে।
সেমিফাইনালে নামার আগে দুই কোচই সতর্ক। সেন্ট পিটার্সবার্গে দুই ফুটবল কোচের মস্তিষ্কের লড়াইও বটে। লড়াইয়ে নামার আগে বেলজিয়াম কোচ বলছেন,‘ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কেউ ভাবেনি। এখন ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগেও নিশ্চয়ই ভাবছে না। আমরা চাই নিজেদের কাজটি করতে। বেলজিয়ামের এই দলটির অবশ্যই সম্ভাবনা রয়েছে ফাইনাল খেলার। সেখান থেকে আমরা খুব দূরেও নেই।’
আর ফরাসি কোচ দেশমের বক্তব্য, ‘বেলজিয়াম এখানে ভাগ্যক্রমে আসেনি। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে বিশেষ এক কৌশল নিয়ে তারা দুর্দান্ত একটি ম্যাচ খেলেছে। আমাদের বিরুদ্ধেও তারা এরকম কিছু করবে হয়তো! তারা(বেলজিয়াম) খুব দ্রুততার সঙ্গে আক্রমণে ওঠে। তাই আমি যে কোনও পরিস্থিতির জন্য ফুটবলারদের তৈরি থাকতে বলেছি।’







