কানাডায় উগ্রপন্থা প্রচারের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা তরুণ সালমান হোসাইনের খোঁজ জানে না ঢাকার পুলিশ। কানাডীয় সংবাদপত্র ন্যাশনাল পোস্টের প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে তারা সালমানের খোঁজ না জানার কথা জানিয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেলী ফেরদৌস চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: কানাডায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ইন্টারপোলেও তার বিরুদ্ধে রেড এলার্ট রয়েছে। কিন্তু কানাডার সঙ্গে আমাদের এ সংক্রান্ত কোন চুক্তি না থাকায় এখন পর্যন্ত আমরা কোন পদক্ষেপ নিতে পারিনি।
`তার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্যও নেই আমাদের কাছে।’
উল্লেখ্য, ইন্টারপোলের সদস্য দেশগুলো নিজেরাই ঠিক করে নেয়- কোন রেড নোটিসের ক্ষেত্রে তারা কতটা গুরুত্ব দেবে। কানাডার সঙ্গে

বাংলাদেশের কোন আসামি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় সালমানের বিষয়টি ততো একটা গুরুত্ব পায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মেজর (বরখাস্ত) নূর চৌধুরী কানাডায় পালিয়ে থাকলেও তাকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি বাংলাদেশ।
খুনি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে না আনতে পারার ক্ষেত্রে কানাডার আইনে মৃত্যুদণ্ড না থাকাটাও এক জটিলতা। যে কারণে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কোন ব্যক্তিকে কানাডা সাধারণত তার নিজ দেশে ফেরত পাঠায় না।
তবে, রাজনৈতিক আশ্রয় বা নাগরিকত্ব না পাবার কারণে নূর চৌধুরী এক ধরনের অবৈধভাবেই সে দেশে বাস করছে।
উগ্রবাদী সালমান
ন্যাশনাল পোস্টের প্রতিবেদনে সালমানকে একজন উগ্রবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: ২০১০ সালের জুলাইয়ে সালমানের বিরুদ্ধে ইহুদী গণহত্যা চালানোর প্ররোচণার অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে এর কিছুদিন আগেই সালমান টরন্টো থেকে লাপাত্তা হন। পরে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিস জারি করা হয়।
গত সেপ্টেম্বরে ইউটিউবে পোস্ট করা ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিশ্বের যেখানেই ইহুদি, তাদের সহযোগী বা দাসদের পাওয়া যাবে, সেখানেই তাদের এভাবে নিধন করা দরকার। দায়েশ (আইএস), তোমরা কি ইসরাইল ও ইহুদিদের প্রতি তোমাদের দায়িত্বের কথা ভুলে গেছো?’
সম্প্রতি কানাডা পোস্ট এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানায়, সালমান হোসাইন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। চলতি রমজান মাসে গুলশানের একটি কফিশপের কাছে তার অবস্থানের ছবিও প্রকাশ করে কানাডা পোস্ট।
গত বছর রমজান মাসে ওই কফিশপের কাছের আরেকটি রেস্ইটুরেন্ট হলি আর্টিজানে রক্তাক্ত জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে।
কানাডার আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে সালমানের ১৬ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
জঙ্গিবাদ: কানাডা-বাংলাদেশ সংযোগ
বাংলাদেশে সালমান হোসাইনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না গেলেও বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তারে কানাডাভিত্তিক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত অন্ততঃ এক জঙ্গির কথা সকলেরই জানা।

তার নাম তামিম চৌধুরী। পরে সে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হলেও ধারণা করা হয়, হলি আর্টিজান এবং শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার নেপথ্যে তার ভূমিকা ছিল।
বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তামিম চৌধুরী ‘নব্য জেএমবি’ সংগঠিত করছিল।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ কয়েকজন বিশ্লেষকের দাবি, তামিম শুধু বিচ্ছিন্নভাবে জেএমবিকেই সংগঠিত করছিল না, কথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গেও তার সরাসরি সম্পর্ক ছিল।
এছাড়া, হলি আর্টিজানে সেনাবাহিনীর অভিযানের পর সেখান থেকে উদ্ধার পাওয়া মানুষদের মধ্যে যে কয়েকজনকে পুলিশ প্রথমে আটক করেছিল তাদের মধ্যে এক যুবক তাহমিদও কানাডায় পড়াশোনা করে।
পরে অবশ্য তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোন প্রমাণ না পাওয়ায় আদালতের নির্দেশে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।








