পশ্চিম লন্ডনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার গ্রেনফেল টাওয়ারের ২৪ তলা থেকে এক সন্ত্বান তার মাকে কোলে করে নামিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম শেকেব নিডা (২৪) নামের এই ছেলেকে বীর হিসেবে অ্যাখ্যা দিচ্ছে।
তবে আগুন থেকে মা ফ্লোরাকে (৫৫) রক্ষা করতে পারলেও শেকেবের বাবা মোহাম্মদ সাবের নিডা (৫৭) এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
পশ্চিম লন্ডনের এই ২৪ তলা ভবনটিতে গত বুধবার মাত্র কিছু সময়ের ব্যবধানে আগুন ছড়িয়ে পরে। এরপরও ঘন কালো ধোঁয়া, চিৎকার, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ভেতর শারীরিকভাবে অক্ষম মাকে বীরের মতোই রক্ষা করেন শেকেব। কিন্তু বাবা সাবের পেছনে পড়ে যাওয়ায় পরে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার সাথে যোগাযোগও করতে পারছে না পরিবার। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে তিনি মারা গেছেন।

পেশী সংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত ফ্লোরা বর্তমানে হাসপাতালে কোমায় রয়েছেন। শেকেব নিজেও বেঁচে ফেরার পরে কোমায় চিকিৎসাধীন ছিলেন, গত রাতেই তার জ্ঞান ফিরেছে এবং অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলেও জানা যায়।
শেকেবের চাচা আরেফ (৫৪) জানান, শেকেব তার মাকে দ্রুত নিচে নিয়ে আসতে চাইছিল। সে তার মায়ের হাতগুলো পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে পিঠে করে পুরো ২৪ তলা থেকে নিচে নেমে আসে।
শেকেবের পারিবারিক বন্ধু ফাহিম মুজহারি (৬২) বলেন, সে নায়ক। এমন বিশৃঙ্কলা ও চিৎকারের মধ্যেও সে তার মাকে নিয়ে এত ওপর থেকে নিচে নেমে এসেছে! সে তার মাকে নিয়ে পুরোটা পথ দৌড়ে নামে। আমি জানি না এটা সে কিভাবে করলো।
কিংসটন ইউনিভার্সিটি থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন শেকেব। আফগানিস্তান থেকে এসে পরিবারটি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আগুন লাগার পর প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই জানালা দিয়ে নীচে লাফিয়ে পড়েছেন। এমনকি শিশু সন্তানকেও নিরাপদে রাখার জন্য জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে।
তারপরও ধোঁয়ার কারণে বহু মানুষ আটকা পড়েছিলেন ভবনটিতে, অনেকে বের হতে চাইলেও বের হতে পারেননি।
ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় জীবিত কাউকে খুঁজে পাবার আর কোনো আশা নেই বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
ওই ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। তবে কী কারণে ও কিভাবে আগুন লাগলো কর্তৃপক্ষ এখনো তা জানাতে পারেনি।







