গোপনে পরপর ৬টি শিশু জন্ম দিয়ে সবগুলোর মৃতদেহ ভাড়া করা স্টোরেজ লকারে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ কানাডার এক নারীর বিরুদ্ধে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
উইনিপেগের অধিবাসী অ্যান্ড্রিয়া গিজব্রেখটের প্রতিটি শিশুকে হত্যার অভিযোগে সর্বোচ্চ দু’বছরের কারাদণ্ড হওয়ার কথা। এক মাস মামলা চলার পর কানাডার ম্যানিটোবা প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মারে থম্পসন সোমবার তার সিদ্ধান্ত পড়ে শোনান।
২০১৪ সালের অক্টোবরে উইনিপেগে ভাড়ায় পাওয়া যায় এমন একটি স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি একটি লকারে ৬টি নবজাতকের মৃতদেহ পায় পুলিশ। ‘ইউ-হল’ নামের ওই স্টোরেজ ফ্যাসিলিটির লকারের ভাড়া পরিশোধ না করায় কর্মীরা লকার পরিষ্কার করতে গিয়ে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ পান। সেটি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে ব্যাগ খুলে তারা ওই ভয়াবহ আবিষ্কারটি করে।
পুলিশকে জানানোর অল্প সময় পরই অ্যান্ড্রিয়া গিজব্রেখট গ্রেফতার হন।
৬টি শিশুর দেহাবশেষের সবগুলো পচে গিয়েছিল। এদের মধ্যে একেকটি পচনের একেক পর্যায়ে থাকলেও অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় সেগুলোর ময়নাতদন্ত করে মৃত্যুর কারণ বোঝা যায়নি। শিশুগুলো জীবিত না মৃত জন্ম নিয়েছিল সেটাও জানা সম্ভব হয়নি।
সোমবার বিচারক মারে থম্পসন বলেন, মামলার অনুসন্ধানে যে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে তাতে কোনো সন্দেহই নেই যে, গিজব্রেখট পরপর ছ’বার তার গর্ভধারণের তথ্য লুকিয়েছেন এবং এর ফলে ৬টি পরিণত ও প্রায় পরিণত শিশুর জন্ম হয়। গর্ভবতী অবস্থায় তিনি কখনো ডাক্তারের কাছেও যাননি বলে জানিয়েছে বিবিসি।
“তার (গিজব্রেখট) সবগুলো কাজ থেকে একটি সিদ্ধান্তেই আসা যায়: গিজব্রেখট জানতেন তার বাচ্চাগুলো জীবিত জন্মানোর কথা এবং তিনি তাদের জন্মের বিষয়টি লুকাতে চেয়েছিলেন,” আদালতের সিদ্ধান্ত পড়ে বলেন বিচারক থম্পসন।

আদালত থেকে গণমাধ্যমে সিদ্ধান্তটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। থম্পসন বলেন, মেডিক্যাল পরীক্ষা ও যুক্তি বিবেচনায় আনলে সেখান থেকে ধারণা করা যায় শিশুগুলো জন্মের সময় সম্ভবত জীবিত ছিল। গিজব্রেখটের কোনো গর্ভকালীন জটিলতা থাকার প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নবজাতকদের দেহাবশেষের সঙ্গে লকারের ভেতর ছোট বাচ্চাদের কিছু পোশাক, তোয়ালে এবং কম্বলও পাওয়া গিয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য, এসব জিনিসের প্রাপ্তিই প্রমাণ করে, বাচ্চাগুলো অ্যান্ড্রিয়া গিজব্রেখটের বাসায় জীবিত জন্ম নিয়েছিল এবং সেখান থেকেই তাদের এনে লকারে রাখা হয়।
আসামীপক্ষের আইনজীবী গ্রেগ ব্রডস্কি মামলা চলাকালে কোনো সাক্ষী হাজির না করলেও যুক্তি দেখান, তার মক্কেল সন্তানদের বাঁচানোর উদ্দেশ্যে স্টোরেজ লকারে রেখেছিলেন, লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নয়। তবে আদালত এ যুক্তি গ্রহণ করেননি।
আদালতের সিদ্ধান্ত সোমবার জানানো হলেও শাস্তির রায় ঘোষণার তারিখ এখনো ধার্য হয়নি।








