চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে বহুমুখী চ্যালেঞ্জে পড়বে বাংলাদেশ। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে- অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত। আঞ্চলিক দেশগুলোর রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে। এজন্য রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। শনিবার রাজধানীতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া প্রায় সব বক্তাই বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যাটি মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক নয়, আন্তর্জাতিক। ফলে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে এটি মোকাবেলা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রোহিঙ্গাদের কারণে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৬ মাসে ১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আর সেপ্টেম্বর থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬ মাসে আরো ২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের উপর যে প্রভাব পড়ছে, তার অন্যতম হলো অর্থনৈতিক। এতে ওই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের উপর প্রভাব পড়ছে, দিনমজুরের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া বাড়ছে জীবন যাত্রার ব্যয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা কক্সবাজার। রোহিঙ্গাদের কারণে পর্যটনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেন, রোহিঙ্গা নিয়ে এই বছরই দুই দফায় সমস্যা হয়েছে। তবে আগেরবারের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমস্যাটি ভিন্ন। মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশি। তাই তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। আমরা মানবিক সংকটে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি মাত্র। আমাদের সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও মানুষের আশ্রয় ব্যাপারে সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা তাদেরকে জানিয়েছি, আরসার (আরাকান সলভেনশন আর্মি) ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছি। কোনোভাবেই বাংলাদেশের মাটি, ভূমি মিয়ানমারের বিপক্ষে ব্যবহার হবে না।
রেহমান সোবহান বলেন, মিয়ানমারের এই সমস্যাটি ঐতিহাসিক। এর সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। এখনও দেশটি গণতান্ত্রিক সমস্যা মোকাবেলা করছে। পূর্ণাঙ্গভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এই সমস্যার বড় প্রভাব পড়ছে সামাজিকখাতে। জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য ও সেনিটেশন, আইন শৃংখলা এবং স্থানীয় জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে মাদক, পতিতাবৃত্তি এবং মানব পাচার বাড়তে পারে। পরিবেশের ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের ঝুঁকি। বিশেষ করে জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাটি কেটে নেয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে।
তিনি যোগ করেন, সুপেয় পানি এবং গাছপালা কমছে। আর এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে হলে, তা সামাল দেয়া বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।







