মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর হত্যা, নির্যাতন আর জ্বালাও-পোড়াও চলছেই। এই নির্যাতনের ঘটনায় সারাবিশ্ব স্তব্ধ ও বিস্মিত। বার বার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানে মিয়ানমারের উপরে চাপ সৃষ্টি করা হলেও আপাত দৃষ্টিতে এটি সহজেই অনুমেয় যে দেশটি তা কানে তুলছে না। মিয়ানমার সরকারের এমন একরোখা ও গোয়ার্তুমি আচরণ খুবই অমানবিক ও লজ্জাজনক। ঘটনার ভয়াবহতা উপলব্ধি করে মানবিক দিক থেকে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনার সরকার সব থেকে বেশি করেছে। অপরদিকে ভারতের পক্ষ থেকে সহযোগিতা আসলেও থাইল্যান্ড, লাওস এবং চীনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। রোহিঙ্গারা জন্মগতভাবে মিয়ানমারের নাগরিক। প্রতিটি মানুষেরিই নিজ মাতৃভূমিতে বসবাসের অধিকার রয়েছে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের দেওয়া ৮৮ দফা সুপারিশমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এ্ই সংকটের সমাধান করতে হবে এবং দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাখাইনে চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক। এছাড়া রোহিঙ্গারা যেন তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে এবং সেখানে নিরাপদে থাকতে পারে তারও নিশ্চয়তার কথা বলেছেন তিনি। আমরাও এমনটি মনে করি। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে না নিয়ে এই সমস্যার সমাধানের কোন সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে মিয়ানমার সরকারের জাতিগত নিধন বন্ধের আহবান জানাই। এবং প্রতিবেশি দেশকে শরণার্থী দিয়ে, সামরিক উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি জটিল না করে সমস্যার সমাধান করার উদ্যোগ নিতে আহবান জানাই। আমরা মনে করি কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নই এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করতে পারে।









