বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ তত্ত্বাবধান করবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রস্তাবিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের গঠন কী হবে সেটা দু’দেশ ঠিক করবে। এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহয়তার জন্য বাংলাদেশ একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রস্তাব করেছে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির খসড়া মিয়ানমারের মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে আরো সিদ্ধান্ত হয়েছে, খুব শিগগির মিয়ানমার সফরে যাবেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। পারস্পরিক নিরাপত্তার বিষয়েও ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে আশার খবর হলো– উভয়পক্ষ শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই সংকট সমাধানে একমত হয়েছে। বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে মিয়ানমারকে সঙ্গে রাখার চেষ্টাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেজন্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। একদিকে মিয়ানমারের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ অব্যাহত রেখে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে দেশটির উপর চাপ বজায় রাখতে হবে। অন্যদিকে চীন, ভারতসহ প্রভাবশালী দেশগুলোকে এই ইস্যুতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মধ্যে রাখতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে তাদের অবহিত রাখতে হবে। মিয়ানমারের আশ্বাসকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের প্রাথমিক সাফল্য হিসেবে ধরে নিতেই পারি। এই সাফল্যের জন্য সরকার প্রাথমিক কৃতিত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপও মিয়ানমারকে আলোচনার টেবিলে আনতে বাধ্য করেছে। একইসঙ্গে সরকার বিশ্ব জনমতকেও পাশে পেয়েছে। নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতাকে সবার উপরে স্থান দিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। প্রমাণ করেছে সবার উপরে মানুষ সত্য। আমরা মানি ব্যক্তির চেয়ে দেশ বড়। কিন্তু এক একটি ব্যক্তির সমষ্টি দেশ। ব্যক্তির অস্তিত্বই যদি না থাকে তাহলে দেশও থাকে না। রোহিঙ্গাদের স্বদেশে স্থান ফিরে পেতে সহায়তা করে বাংলাদেশ ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনে সক্ষম হবে এটাই আমাদের আশা।







