একান্ত মানবিক কারণে অন্তত ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও ক্রমেই যে তারা দেশের জন্য বোঝা হয়ে উঠছে তা অকপটে স্বীকার করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
তিনি বলেন, ‘আসলেই একটা বড় সমস্যার মধ্যে আমরা আছি। আমি নিজেও বলতে পারবো না রোহিঙ্গা সমস্যা কবে সমাধান হবে।’
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা প্রবন্ধ অবহতিকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে এমন অসহায়ত্ব।
তিনি বলেন, ‘‘কতদিন তাদের (রোহিঙ্গাদের) এখানে রাখবো আমরা বলেন? এক বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশ বাংলাদেশ। সেখানে ১০ লাখ মানুষ যদি দিনের পর দিন থাকে, তবে কতদিন তাদের আমরা আশ্রয় দেবো, খাবার দেবো, চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো বলেন?
‘‘ওখানে (কক্সবাজারে) যে সুন্দর টিলা এবং পাহাড়গুলো ছিল তা শেষ হয়ে গেল, গাছপালা শেষ হয়ে গেল। এমনকি হাতি পর্যন্ত শেষ হয়ে গেল। যে সকল দেশীয় জনগোষ্ঠী ওখানে আছে তারা পর্যন্ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।’’
বিভিন্ন মরণব্যাধী নিয়ে রোহিঙ্গারা এদেশে আসায় তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘এমনকি এইডস আক্রান্ত রোগীরা পর্যন্ত এসেছে, তাদের আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। এটা বড় ভয়ানক। ভয়ানক এ কারণে যে, এইডস রোগ প্রতিরোধ করা যায় না, হয়তো নিরাময় করা যায়। কিন্তু এটাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে যেকোন সময়। যদি এইডস ছড়িয়ে যায়, ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে যায়, এটাতো হতে পারে যে কোন সময়।’’
মানবিক কারণে এত বিশাল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিলেও অনির্দিষ্টকাল তাদের ভার বহন করে চলা অসম্ভব জানিয়ে নাসিম বলেন, ‘আমরাতো বিরামহীনভাবে তাদেরকে সাহায্য করতে পারবো না, আশ্রয় দিতে পারবো না।’
বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান বাংলাদেশকে সহমর্মিতা জানালেও একমাত্র আমেরিকা ছাড়া অন্য কোন দেশ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়নি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় একমাত্র আমেরিকা ছাড়া অন্য কোন দেশ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারকে চাপ সৃষ্টি করে আমাদের সহায়তা করেনি।
‘অনেক বিদেশি সরকারপ্রধান এখানে এসেছেন, আসছেন এবং ভবিষ্যতেও আসবেন। তারা বাংলাদেশকে সহমর্মিতা জানাচ্ছেন, কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের ওপর তারা কোন চাপ সৃষ্টি করছেন না।’
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দয়া করে আপনারা মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। যেন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তারা ফিরিয়ে নিতে তারা বাধ্য হয়।
রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
‘আ কুইক নিড-অ্যাসেসমেন্ট সার্ভে ফর এসেনশিয়াল প্রাইমারি হেলথকেয়ার ফর ফর্সিবলি ডিসপ্লেসড মিয়ানমার ন্যাশনালস (এফডিএমএন) পপুলেশন’ শীর্ষক তিন মাসব্যাপী এক গবেষণা করে বেসরকারি ইউভার্সেল মেডিকেল কলেজ রিসার্চ সেন্টার। এ অনুষ্ঠানে গবেষণার বিভিন্ন দিক এবং ফলাফল তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সালান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
সভাপতিত্ব করেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্ত্তী।







