মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা ঢলের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। এইদিন উপলক্ষে কক্সবাজারে ক্যাম্পের মাঠে সমাবেশ করেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। বিষয়টি নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ সারাদেশে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
২০১৭ সালের ৯ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি সেনাচৌকিতে হামলার অভিযোগ এনে স্থানীয় অধিবাসী রোহিঙ্গাদের ওপর চড়াও হতে শুরু করে সেনাবাহিনী। এরপর ২৪ আগস্ট আনান কমিশনের রোহিঙ্গা বিষয়ক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর গভীর রাতে ৩০টির বেশি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে হামলার ঘটনায়ও রোহিঙ্গাদের দায়ী করে ২৫ তারিখ ভোর থেকেই তাদের ওপর পুরোদমে দমনপীড়ন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো ওই জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে পাড়ি জমাতে থাকে ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। বর্তমানে এই সংখ্যা বেড়ে ১১ লাখ ১৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের পাহাড় কেটে বানানো ৩২টি ক্যাম্পে তাদের বসতি। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত দুই বছরে জন্ম নেয়া ৯১ হাজার শিশু। বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের মহাযজ্ঞ চলছে।
সম্পূর্ণ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবার কারণে বাংলাদেশ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন। সারাবিশ্ব এই রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে শতাব্দীর অন্যমত মানবিক বিপর্যয় বলে উল্লেখ করে মিয়ানমারের নিন্দা করেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি চীনসহ বিভিন্ন দেশ এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সমর্থন দিলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে। ভূ-রাজনীতি আর কূটনৈতিক মারপ্যাঁচে মিয়ানমারও যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে না, তাও বোঝা যাচ্ছে। কূটনৈতিক তৎপরতা জারি রেখে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক হলেও খুব একটা ফলাফল আসছে না।
২০১৮ সালের শেষ দিকে একবার এবং এই আগস্ট মাসে আরেকবার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা নিলেও ভেস্তে গেছে সেই পরিকল্পনা। এমনকি কক্সবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ী এলাকা থেকে তাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিলে তাতে বিরোধিতা করে বিভিন্ন সংস্থা। সার্বিক প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির সমাধান যে এক বড় ধরণের গোলক ধাধায় পড়ে গেছে, তা বলা যেতেই পারে।
গত দুই বছরে কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ব্যাপক পরিমাণ প্রাকৃতিক, সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্টির উপরেও পড়ছে বিরুপ প্রভাব। বিষয়গুলো খুবই উদ্বেগের।
আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখে এই অবস্থার দ্রুত সমাধান করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।








