রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এবং তাদের সমর্থক স্থানীয়দের চালানো নির্মমতা ও জাতিগত নিধনের কারণে পালিয়ে আসায় কক্সবাজারে মানবিক সংকট আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই চলছে। বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশের মানুষ এই দুর্দিনে তাদের পাশে না দাঁড়িয়ে পারেনি। প্রতিবেশি রোহিঙ্গাদের বিপদে নিজেদের স্বার্থ ভুলে শুরু থেকেই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। এমনকি প্রতিবেশির বিপদের সময় প্রয়োজনে নিজেদের খাবার একসঙ্গে ভাগ করে খাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের অনেক মানুষ যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দিয়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয় এবং তাদের জন্য বাংলাদেশ যেভাবে মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে তা সারাবিশ্বে প্রশংসা পেয়েছে। তবে এর মধ্যেও একটি আশঙ্কা থেকে যায়। আর তা হলো- জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে সব হারানো এসব রোহিঙ্গাকে সহায়তার নামে কোন জঙ্গিগোষ্ঠী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে কি না। একই আশঙ্কার কথা এসেছে ‘বার্মায় গণহত্যা ও সন্ত্রাস তদন্তে নাগরিক কমিশন’-এর পক্ষ থেকেও। বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘বার্মায় গণহত্যা ও সন্ত্রাস তদন্তে নাগরিক কমিশন’ গঠনের ঘোষণা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুল হুদা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সাহায্যের নামে মৌলবাদী গোষ্ঠি যেন তাদের জঙ্গিবাদে লাগাতে না পারে সে বিষয়ে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে।’ বিচারপতি শামসুল হুদার এই বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করছি। আমরা এর সঙ্গে আরও একটি বিষয় যোগ করতে চাই। আর তা হলো- রোহিঙ্গাদের সহায়তার নামে রাজধানীসহ সারাদেশে রাস্তা-ঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং দোকানপাটসহ জনবহুল জায়গায় ব্যানার টানিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। মিয়ানমারের সৃষ্টি করা এই সমস্যার সুযোগে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে কোন জঙ্গিগোষ্ঠী যেন জঙ্গিবাদে অর্থায়ন এবং জঙ্গিবাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে না পারে সেই বিষয়েও সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। নাহলে এই বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াবে।








