মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেও সংশয় কাটেনি রোহিঙ্গাদের। এখানে নিজেদের নিরাপদ ভাবলেও ক্রমেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে বন্য হাতি। কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের কাছে এক জীর্ণ আশ্রয়ে ঠাই নেওয়া জানে আলম তেমনই আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
শরণার্থী শিবিরের বাইরে আশ্রয় নেওয়া আলম সেই বিভীষিকাময় রাতে অন্যান্যদের সাথে ঘুমিয়েছিলেন। এসময় বন্য হাতির আক্রমণে প্রাণ হারায় তার বাবা ও ৭ মাস বয়সী এক শিশু আত্মীয়। এ ঘটনায় আহত হয় তার আরও ৭ জন আত্মীয়।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, সেই হামলায় আলমও কিছুটা আহত হন। গাল, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত নিয়ে তিনি বের হন কবরের জায়গা খুঁজতে। খালি পায়ে বন্য এলাকা ঘুরে অবশেষে তেমন একটি স্থানের খোঁজ পান তিনি। সেখানেই ছোট বাঁশের লাঠি দিয়ে চিহ্নিত বাবার কবরের পাশে দাড়িয়ে আক্ষেপের কথা জানান তিনি।
কিছু দূরে মাটিতে পড়ে ছিলো সাদা কাপড়ে মোড়ানো তার শিশু আত্মীয়ের দেহ। তার জন্য একটি ছোট কবর খোঁড়া হচ্ছিলো। পাশেই নীরবে দাড়িয়ে ছিলেন কয়েকজন।
দুঃখ-হতাশায় আচ্ছন্ন আলমের আক্ষেপ, ‘ভেবেছিলাম এখানে আমরা নিরাপদ। কিন্তু এখানেও ক্রমেই আমরা অনিরাপদ হয়ে উঠছি।’ বন্য হাতির আক্রমণ আলমের মতো শোকাচ্ছন্নদের দেয় কঠোর বার্তা, তাদের পরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি।
২৫ আগস্টে মিয়ানমারে নতুন করে রোহিঙ্গা নিধন শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৫ লাখেরও বেশি মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য দুইটি আনুষ্ঠানিক শরণার্থী শিবির এখন কানায় কানায় পূর্ণ। হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা অন্যত্র আশ্রয় খুঁজছেন। এদের কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন কুতুপালং ক্যাম্পের বাইরে জনশূণ্য বন্য এলাকায়।
ইউএনএইচসিআর’এর স্টাফ মেম্বার ফ্র্যাঙ্কলিন গোলে ক্যাম্পের বাইরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য পানি, শৌচাগার এবং আশ্রয়ের জন্য কাজ করছেন। তিনি বলেন, এখানটা একেবারেই বন্য, তাই বন্য প্রাণীদের এলাকাতেই লোকজন আশ্রয় নিচ্ছেন। এখানে হাতিরা ঘুড়ে বেড়ায়, যা বড় হুমকি।
গোলে জানান, উঁচু-নিচু ও আংশিক বন্য এলাকায় আলো ও বৈদ্যুতিক বেড়া দিয়ে হাতির আক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।
তবে বাংলাদেশের এই অংশে থাকা এশিয়ান হাতিরা বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণবিদদের হিসাবে, বনে বাস করা হাতির সংখ্যা মাত্র ২৩৯টি। এরা চট্টগ্রাম এলাকায় ঘুরে বেড়ায়, যেখানে রোহিঙ্গারা পালিয়ে এসে আশ্রয় নিচ্ছে। স্থানীয় অধিবাসীরাও জানান, বর্ষাকালে এই হাতিরা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসে পড়ে।







