ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো না থাকলে কী হয় গত কয়েক মাসে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোনালদো থাকলে কী হয় এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে বুঝেছে জুভেন্টাস। তবে উল্টো চিত্রও দেখল। অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা জুভরা লিগ ম্যাচে হেরে গেছে জেনোয়ার কাছে। রোনালহীন ম্যাচে ২-০ গোলে হার অ্যালেগ্রির দলের।
লিগে চলতি মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ পেল জুভেন্টাস। ২৭ ম্যাচের অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা শেষ হল তাদের।
পয়েন্ট তালিকার ১২ নম্বরে অবস্থান জেনোয়ার। তার ওপর লিগে সবগুলোর দলের মধ্যে তারাই জুভেন্টাসের কাছে সবচেয়ে বেশিবার হেরেছে (৬২)। জুভদের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি গোল হজমের রেকর্ডটাও তাদের (২১১)।
তবে এই ম্যাচে সম্ভবত ২০১১-১২ মৌসুমের স্মৃতি নিয়ে নেমেছিল জেনোয়া। ওই মৌসুমে লিগের দুই ম্যাচেই জুভেন্টাসের বিপক্ষে অপরাজিত ছিল তারা।
অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তুরিনের নতুন গল্প শুরু করা রোনালদো এই ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন। তাতেই আক্রমণে ধার হারায় জুভেন্টাস। প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটে গোলের একেবারে কাছেই চলে গিয়েছিল জেনোয়া। কিন্তু ফিনিশিং টাচটা হয়নি।
এরপর আরও অন্তত তিনবার সম্ভাবনাময় আক্রমণ করে স্বাগতিকরা। কিন্তু তা থেকেও গোল পায়নি। জেনোয়ার তুলনায় জুভেন্টাসের আক্রমণ ছিল একেবারেই ধারহীন। প্রতিপক্ষে প্রবল চাপ সয়েই প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য শেষ করে জুভেন্টাস।
প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করা জেনোয়া দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। অবশেষে ৭২ মিনিটে গোলের দেখা পায় তারা। জুভেন্টাসের বুকে ‘ছুড়ি’ মারেন তাদেরই সাবেক সৈনিক। গত মাসেই জুভেন্টাস থেকে ধারে জেনোয়ায় গেছেন স্টেফানো স্টুরারো। তার গোলেই পিছিয়ে পড়ে জুভরা।
৯ মিনিট পর (৮১) মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গোরান পান্ডেভ। শেষ ২০ মিনিটে জেনোয়ার দুর্দান্ত ফুটবলের কাছে এক রকম আত্মসমর্পণ করে লিগ লিডাররা। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি জুভেন্টাস। ফলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
তবে হারলেও পয়েন্ট টেবিলের অন্যদের ধরাছোঁয়ার বাইরে জুভেন্টাস। ২৮ ম্যাচের তাদের পয়েন্ট ৭৫। এক ম্যাচ কম খেলে দ্বিতীয়স্থানে থাকা নাপলির পয়েন্ট ৫৭। ২৭ ম্যাচে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে এসি মিলান। এক পয়েন্ট কম নিয়ে চারে মিলানের আরেক ক্লাব ইন্টার। ২৮ ম্যাচে ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ পাঁচের অন্যদল এএস রোমা।









