চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঙ্গলবার রাতের সেমিফাইনালটি রিয়াল মাদ্রিদ বনাম অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ না হয়ে যেন রোনালদো বনাম অ্যাটলেটিকো হয়ে থাকল। টুর্নামেন্টটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার অসাধারণ এক হ্যাটট্রিকে উড়ে গেল নগর প্রতিবেশীদের দল। সিআর সেভেন জ্বললেন, জ্বালালেন অ্যাটলেটিকোকে। তাতে ডিয়েগো সিমিওনের দলকে সেমির প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হারিয়ে কার্ডিফের ফাইনালের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা।
কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ফিরতি লেগে হ্যাটট্রিকসহ দুই লেগে মোট পাঁচ গোল করার পর আবারো হ্যাটট্রিক। রোনালদোর ম্যাজিক যেন থামছেই না! চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ তিন ম্যাচে ৮ গোল, যার দুটিই হ্যাটট্রিক। পর্তুগিজ তারকার এই আসরে গোল হল ১০টি। ১১ গোল নিয়ে শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির বার্সেলোনার টুর্নামেন্ট কোয়ার্টারেই শেষ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে টপকে যেতে আরো নিশ্চিত দুটি ম্যাচ পাচ্ছেন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে ১০৩টি গোল করা রোনালদো।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সপ্তম মিনিটে করিম বেনজেমা ফাঁকা জালে বল পাঠাতে ব্যর্থ হলেও বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। অতিথিদের বিপক্ষে প্রথম গোল পেতে রোনালদোর সময় লেগেছে মাত্র দশ মিনিট। সার্জিও রামোসের ক্রস সাভিচ হেডে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। পরে কাসেমিরো ঠিকভাবে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারলেও দুর্বল ভলিতে সেটি এগিয়ে দেন রোনালদোর দিকে। তাতে মাথা ছুঁয়ে জাল খুঁজে নেন সিআর সেভেন।
ঠিক পাঁচ মিনিট পরে এগিয়ে যাওয়ার আরেকটি সুযোগ এসেছিল লস ব্লাঙ্কোসদের। টনি ক্রুসের কর্নারে বল পেয়ে রাফায়েল ভারানে মাথা দিয়ে ঠেলে দিয়েছিলেন অ্যাটলেটিকোর জাল বরাবর, কিন্তু দেয়াল হয়ে দাঁড়ান অতিথি গোলরক্ষক ইয়ান ওব্লাক।
পাল্টা আক্রমণে পরের মিনিটে সমতার সুযোগ হাতছাড়া করে অ্যাটলেটিকো। সাউলের পাসে বল পেয়ে রিয়ালের বক্সে ঢুকেও ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি কেভিন গামেইরো। ক্ষিপ্রগতির কেইলর নাভাসের প্রতিরোধের শিকার হন তিনি।
প্রথমার্ধে সমতায় ফেরার আরেকটি সুযোগ পেয়েছিল অ্যাটলেটিকো। ৩২ মিনিটে জানিক কারাসকোর ফ্রি-কিক অ্যান্টনে গ্রিজম্যান ঠিকভাবে পায়ে ছোঁয়াতে না পারলে আর সেটি কাজে লাগানো হয়নি। গ্রিজম্যানের পায়ে লেগে বল বারের ওপর দিয়ে মাঠ ছাড়া হয়। এতে প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া অ্যাটলেটিকো চেষ্টাটা চালিয়ে গেছে। কিন্তু কাজের কাজ গোলটাই আদায় করতে পারেনি। এই সুযোগে ৭৩ মিনিটে অতিথিদের আরেকবার হতাশার আগুনে পোড়ান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার দারুণ এক ফসল ঘরে টেনেছেন সিআর সেভেন। মার্সেলোর পাস ডি-বক্সের বাইরে থেকে খুঁজে পায় বেনজেমাকে। ফরাসী স্ট্রাইকারের দেয়া পাস থেকে বল নিয়ে জোরাল শটে ওব্লাকের মাথার উপর দিয়ে জালে পাঠান চারবারের বর্ষসেরা তারকা।
পরে ৮৬ মিনিটে আবারো সিআর সেভেন ম্যাজিক। বদলী লুকাস ভাসকেজের ডিফেন্সচেরা পাস ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা রোনালদো জালে জড়াতে না পারলে নিজের নামের প্রতি অবিচারই করতেন! সেটি করেননি বলেই দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক আলোর মুখ দেখে এসময়।
এই জয়ে অ্যাটলেটিকোর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের স্বপ্ন শেষ হয়ে না গেলেও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ল। ফাইনালে উঠতে হলে পরের পর্বে নিজেদের মাঠে কমপক্ষে ৪ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে সিমিওনের শিষ্যদের। ভিসেন্তে ক্যালদেরনে আগামী বুধবার রাতে তার সঙ্গে নিজেদের জালও অক্ষত রাখতে হবে অ্যাটলেটিকোকে।








