অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখার মঞ্চ সাজিয়েছিল জুভেন্টাস। আর একটি গোল হলেই নিশ্চিত সেমিফাইনাল, রিয়াল মাদ্রিদেরও সমীকরণ ছিল একই। এমন মুহূর্তে ফাউলে সর্বনাশ জুভেন্টাসের। আর সুযোগে অতিরিক্ত সময়ের পেনাল্টিতে গোল করে লস ব্লাঙ্কোসদের সেমিফাইনালে নিয়ে গেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো!
বুধবার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরতি লেগে জুভেন্টাসের কাছে ৩-১ গোলে হেরেও দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলের অগ্রগামীতায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে পৌঁছেছে রিয়াল মাদ্রিদ। জুভদের মাঠ থেকে প্রথম লেগে ৩-০ গোলে জিতে এসেছিল জিনেদিন জিদানের দল।
রাতের অন্য ম্যাচে ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র করেও সেমির টিকিট কেটেছে বায়ার্ন মিউনিখ। স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ার মাঠে শেষ আটের প্রথম লেগে ২-১ গোলে জিতে এগিয়ে ছিল বায়ার্ন। অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ফিরতি লেগে গোলের দেখা না পেলেও তাই সেরা চারে পা রাখতে সমস্যা হয়নি জার্মান জায়ান্টদের।

রিয়ালের মাঠে অসাধারণ এক সূচনাই করেছিল জুভেন্টাস। নিজেদের মাঠে নড়েচড়ে বসার আগেই ধাক্কা খান রিয়াল সমর্থকরা। স্বাগতিক ডিফেন্ডারদের জড়তা কাঁটিয়ে ওঠার সুযোগ না দিয়েই ঝড়ের গতিতে রক্ষণে ঢুকে পড়েন জুভ ফরোয়ার্ড মারিও মানজুকিচ। রিয়ালেরই সাবেক ডিফেন্ডার স্যামি খেদিরার দেয়া পাসে দারুণ এক হেডে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই তুরিনের বুড়িদের এগিয়ে দেন ক্রোয়েট ফরোয়ার্ড মানজুকিচ।
প্রথম লেগে ৪-১ গোলে হেরেও আগেরদিনই দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনাকে ৩-০তে উড়িয়ে টুর্নামেন্ট ছাড়া করেছে আরেক ইতালিয়ান দল রোমা। জুভ ফরোয়ার্ডরা সেই ম্যাচ থেকে নিজেদের উজ্জীবিতই করে থাকবেন হয়ত! ম্যাচের অষ্টম মিনিটে আবারও রিয়াল রক্ষণে হানা দেন গঞ্জালো হিগুয়েন। তবে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে এ যাত্রায় গোলবঞ্চিত করেন স্বাগতিক গোলরক্ষক কেইলর নাভাস।
রিয়ালও পাল্টা জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি। দশম মিনিটের মাথায় লস ব্লাঙ্কোসদের ওয়েলস তারকা গ্যারেথ বেলের ভাল একটি আক্রমণ প্রতিহত করেন অতিথি গোলরক্ষক বুফন। তিন মিনিট পর অফসাইডে বাতিল হয় রিয়ালের একটি গোল।
ম্যাচের ৩৭ মিনিটে রিয়াল শিবিরকে স্তম্ভিত করে জুভেন্টাসকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন মানজুকিচ। স্টেফেন লিসেতস্টাইনারের পাসে প্রথম গোলের পুনরাবৃত্তি করে দারুণ এক হেডে স্বাগতিক গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ক্রোয়েট তারকা।

বিরতিতে যাওয়ার আগে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ ছিল রিয়ালের সামনে। প্রথমার্ধের যোগ করা দ্বিতীয় মিনিটে টনি ক্রুসের মাথা ছোঁয়া বল ফেরে বারে লেগে।
গোল শোধের জন্য দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই জুভ রক্ষণে হামলে পড়ে রিয়াল। ৫৭ মিনিটে রোনালদোর মাটি কামড়ানো শট আটকে দেন অতিথি গোলরক্ষক বুফন।
পরেও আটকে রাখা যাচ্ছিল না জুভেন্টাসকে। ম্যাচের ৬০ মিনিটে ডগলাস কস্তার নিরীহ শট ঠেকাতে গিয়ে এক মারাত্মক ভুল করেন রিয়ালের নাভাস। তার পিছলে গ্লাভসের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বল পা ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে দেন ব্লেইসে মাতুইডি।
ম্যাচে টিকে থাকতে তখন গোল চাই-ই-চাই রিয়ালের। এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে দুই মিনিটে দুবার গোলের সুযোগ হারায় রিয়াল। ৭৮ মিনিটে ইস্কোর শট কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান বুফন। পরের মিনিটে রাফায়েল ভারানের শট অল্পের জন্য হয় লক্ষ্যচ্যুত।

দুই লেগ মিলিয়ে তখন ৩-৩ সমতায় থাকা ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষমুহূর্তে, বাড়তি ৩০ মিনিটে গড়ানোর অপেক্ষাও কাছাকাছি। তখনই লুকাস ভাসকেজকে ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন বেনাতিয়া। তাতে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে লাল কার্ডে মাঠ ছাড়েন জুভেন্টাস অধিনায়ক বুফন। সেখান থেকে স্পটকিকে গোল করে রিয়ালের সেমির টিকিট নিশ্চিত করেন রোনালদো। সঙ্গে রেকর্ড টেনে নেন একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ১১ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে গোল করার খাতায়। নিজের ১৫০তম ম্যাচে।








