ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেড় তারকা খেলোয়াড়রা পারফর্ম করতে ব্যর্থ। ফলশ্রুতিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগের খেলায় রেড ডেভিলরা ১-০ গোলে হারল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে। দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তাই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট কাটল ডিয়েগো সিমিওনের দল।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্যর্থতার ইতিহাসের ম্যানইউর বেশ লম্বা। ২০১১ সালের পর থেকে তারা নকআউট পর্বে কেবল দুই ম্যাচ জিতেছে। আট বছর ধরে ঘরের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তারা নকআউট পর্বে একটিও জয়ের দেখা পায়নি।
২০১৪ সালে ডেভিড ময়েসের কোচিংয়ে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ম্যানইউ ৩-০ গোলে জিতেছিল। এরপরের ইতিহাস শুধুই হতাশার। আসরের গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নকআউট পর্বে একটি গোলের বেশি গোলই করতে পারেনি।
টানা ছয় বছর ধরে মেজর ট্রফি জয়ের স্বাদ বঞ্চিত ম্যানইউ। সেই খরা দূর করতে গত বছরের গ্রীষ্ম মৌসুমে অনেক আশা নিয়েই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে তারা দলে টেনেছিল। অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে বড় মঞ্চে পর্তুগিজ তারকা ছিলেন একেবারেই বিবর্ণ। গোটা ম্যাচে নিতে পারেননি একটিও শট! একবার পড়েছিলেন অফসাইডের ফাঁদে।
মঙ্গলবার রাতে হওয়া ম্যাচে বল দখলে ম্যানইউই এগিয়ে ছিল। শতকরা ৬০ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ রাখলেও পায়নি গোলের দেখা। শট নেয়ার দিক থেকেও তারা প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে ছিল। ১১ শটের ভেতর ৫টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে অ্যাটলেটিকো নিতে পেরেছিল ৮টি শট, লক্ষ্যে ছিল ৩টি।
১৩ মিনিটের মাথায় ব্রুনো ফের্নান্দেসের পাসে বল পেয়ে সুইডিশ ফরোয়ার্ড আন্থনি এলাঙ্গার বাঁ পায়ের শট অ্যাটলেটিকোর গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাকের কপালে লেগে প্রতিহত হয়। তিন মিনিট পর রদ্রিগো ডি পলের ডান পায়ের দূরপাল্লার শট লাফিয়ে এক হাতে ঠেকিয়ে দেন ম্যানইউ গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়া।
৩৪ মিনিটে গোল করেছিলেন জোয়াও ফেলিক্স। তবে তাকে পাস দেয়ার সময় মার্কোস লরেন্তে অফসাইডে থাকায় এগিয়ে যেতে পারেনি অ্যাটলেটিকো।
খেলার ৪১ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর ডান প্রান্তে থাকা অ্যান্টনিও গ্রিজম্যানের ক্রসে বল পেয়ে হেডে বল জড়িয়ে দেন রেনান লোদি। ফলে অ্যাটলেটিকো লিড পায়।
বিরতির আগে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ফের্নান্দেসের দূরপাল্লার শট ওবলাক ঠেকান। কয়েক সেকেন্ড পর হ্যারি মাগুইরের হেড পাসে বল পেয়ে গোলমুখে হেড নেন রাফায়েল ভারানে। সেটিও দারুণ দক্ষতায় জালে যেতে দেননি ওবলাক।
ম্যাচের ৫২ মিনিটে ডি পলের শট গোল হতে দেননি ডি গিয়া। ৬৭ মিনিটে গোল শোধের জন্য ৩ পরিবর্তন আনেন ম্যানইউ কোচ রালফ র্যাঙ্গনিক। এলাঙ্গার বদলে মার্কাস রাশফোর্ড, নেমাঞ্জা মাটিচের জায়গায় স্কট ম্যাকটমিনে ও ব্রুনো ফের্নান্দেসের পরিবর্তে পল পগবাকে নামানো হয়।
৭৭ মিনিটে ভারানের হেড হাত দিয়ে বাইরে পাঠান ওবালাক। বাকি সময়ে আক্রমণ করে গেলেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ম্যানইউ।
আরেক ম্যাচে আয়াক্সকে তাদের মাঠে ১-০ গোলে হারিয়েছে বেনফিকা। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলের অগ্রগামিতায় বেনফিকা কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে।








