১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সর্বশেষ মতিউর রহমান নিজামীসহ এ
পর্যন্ত ৫ জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হয়েছে। একাত্তরে
বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের নকশাকার নিজামী হলেন ফাঁসির দড়িতে ঝোলা ৫ম
যুদ্ধাপরাধী। এদের মধ্যে সর্বপ্রথম ফাঁসির দড়িতে ঘৃণ্য অপরাধের সাজা পান ‘মিরপুরের কসাই’ কাদের মোল্লা।
কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ছিলো নানাভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রথমে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলেও শাহবাগ ও দেশব্যাপী তীব্র গণঅসন্তোষ-প্রতিবাদের মুখে অবশেষে এই নরপশুর প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত হয়। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর বিজয়ের মাসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার সাহসী যুদ্ধে প্রথম বিজয় আসে কাদের মোল্লার ফাঁসির মাধ্যমে।
কৃতকর্মের ফল হিসেবে কাদের মোল্লার পর ফাঁসির দড়ি চেপে বসে আল-বদর সংগঠক আরেক নরপিশাচ কামারুজ্জামানের গলায়। ১১ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
২০১৫ সালেই এক রাতে দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা) ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ঝুলিয়ে দেয়ার মাধ্যমে লাল-সবুজের বাংলাদেশে দু’টি বিশাল কলঙ্কের দায়ভার মুক্ত হয় জাতি।
সেবছরের ২২ নভেম্বর এক রাতে প্রথমে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হয় সাকাকে। এরপরই মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই ধারাবাহিকতায় ১০ মে ২০১৬ তারিখ একাত্তরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী, কুখ্যাত আলবদর নেতা, শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীকে গণহত্যা, হত্যা ও ধর্ষণের অপরাধে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
রাত ১২টা ১০ মিনিটে নিজামী্র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ফাঁসি কার্যকরের পর কারাগারের বাইরে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বলেন, রাত ১২টা ১ মিনিটেই নিজামীকে ফাাঁসির মঞ্চে তুলে গলায় ফাঁসির দড়ি পরানো হয়। এরপর রাত ১২টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।







