‘আমার জন্য খুবই বিশেষ ম্যাচ ছিল। খুব মন খারাপের মধ্যে আছি। তবুও খুশি যে এখানে টেনিস খেলছি। আমি খেলায় মনোযোগ দিয়েছিলাম। আমার দেশের জন্য একটি অভিযানে ছিলাম। আমার পথে সামনে আসা যেকোনো কিছুর জন্য শুরু থেকেই প্রস্তুত থাকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
মঙ্গলবার মেক্সিকোর মন্টেরেতে ডব্লিউটিএ ট্যুর ইভেন্টে রাশিয়ার আনাস্তাসিয়া পোটাপোভার বিপক্ষে জিতে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানান ইউক্রেনের টেনিস তারকা এলিনা সভেতলিনা। ইউক্রেনের হলুদ এবং নীল রঙের পোশাক পরে সভেতলিনা খেলতে নামেন।
৬৪ মিনিট স্থায়ী একপেশে ম্যাচে ৬-১ ও ৬-১ ব্যবধানে সরাসরি সেটে জিতেছেন মেয়েদের র্যাঙ্কিংয়ে ১৫তম স্থানের সভেতলিনা। দ্বিতীয় রাউন্ডে বুলগেরিয়ার ভিক্টোরিয়া তোমোভার বিপক্ষে খেলবেন তিনি।
ম্যাচের আগেরদিন অবশ্য রাশিয়ান বা বেলারুশিয়ান খেলোয়াড়দের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন সভেতলিনা।
মূলত সভেতলিনা কোনো জাতীয় প্রতীক, রং, পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত না করে শুধুমাত্র রাশিয়ান বা বেলারুশ নাগরিকদের নিরপেক্ষ ক্রীড়াবিদ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য এটিপি, ডব্লিউটিএ এবং আইএফটিকে অনুরোধ করেছিলেন। টেনিস সংস্থাগুলো সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত তিনি না খেলার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার টেনিসের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বিবৃতির মাধ্যমে জানায়, রাশিয়ান এবং বেলারুশের খেলোয়াড়দের শীর্ষ পর্যায়ে জাতীয় পতাকা ছাড়া খেলার অনুমতি দেয়া হবে। তাই সিদ্ধান্ত বদল করে সভেতলিনা খেলতে নামেন।
মন্টেরে ওপেনে চ্যাম্পিয়নের জন্য ৩১ হাজার ডলার প্রাইজমানি রয়েছে। ২০২০ সালে টুর্নামেন্টটির শিরোপা জেতা সভেতলিনা বলেছেন, ‘পুরস্কারের অর্থ উপার্জন করতে চাচ্ছি, তা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য ব্যয় করা হবে।’
‘আমার দেশের জন্য জিতেছি, তাই খুশি। একইসঙ্গে বেদনাহত। আমার হৃদয়টা বাড়িতে পড়ে আছে এবং আমার মন এখানে যুদ্ধ করছে। তাই মনোযোগ ও ভারসাম্য ধরে রাখা খুব কঠিন।’
‘আমার দেশে যা চলছে তার তুলনায় এই জয় কিছুই নয়। তবুও খুশি, কারণ আমার দেশের জন্য লড়াই করছি। আমি ইউক্রেনীয়দের জন্য সত্যিই গর্বিত। তারা সত্যিই বীর। আশা করি সবকিছু (যুদ্ধ) জলদি শেষ হবে।’







