বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন দেবিকা পালশিকর। বুধবার মিরপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সঙ্গে যোগ দেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার।
৩৮ বছর বয়সী দেবিকা ভারত দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন দুই বছর। খেলোয়াড়ি জীবন লম্বা না হওয়ায় কোচিংয়ে নাম লেখান সাবেক এ পেসার। দেশের জার্সিতে তিনি খেলেছেন ১৫টি ওয়ানডে ও একটি টেস্ট। তার খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার মাত্র আড়াই বছরের।
হেড কোচ হিসেবে রুমানা-সালমাদের সঙ্গে থাকছেন ডেভিড ক্যাপেল। তার সহকারী হচ্ছেন দেবিকা। আসন্ন সাউথ আফ্রিকা সফর সামনে রেখে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৩০ ক্রিকেটারকে নিয়ে ক্যাম্প শুরু হবে ১২ এপ্রিল। সেখানেই কাজ শুরু করবেন দেবিকা। ক্যাপেল গত দুই বছর ধরে আছেন নারী দলের হেড কোচের দায়িত্বে।
আগামী তিন মাসের ব্যবধানে দেশের বাইরে দুটি সিরিজ, এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অংশ নেবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। প্রথম মিশন সাউথ আফ্রিকা। পাঁচ ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দল ঢাকা ছাড়বে ২৮ এপ্রিল।
বুধবার দুপুরে মিরপুরে এদেশের নারী ক্রিকেট নিয়ে নিজের কর্মপরিকল্পনার কথা জানান রুমানাদের সহকারী কোচ। প্রশ্ন-উত্তর পর্বটি তুলে ধরা হল-
দেশের বাইরে আপনার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। কেমন উন্নতি করতে চান?
দেবিকা: গত ছয়-সাত বছর ধরে বাংলাদেশ দলকে দেখেছি। তাদের মধ্যে শক্তি ও আত্মবিশ্বাস আছে। আমার মনে হয় তাদের মধ্যে কিছুটা কৌশলগত ও দলীয় প্রচেষ্টার অভাব আছে। যখন আরও বড় জায়গায় খেলতে যাবেন, আপনাকে মানসিকভাবে আরও শক্ত হতে হবে। গত ছয়-সাত বছরে তারা যা করেছে, তা ভাল। তবে আরো উঁচু পর্যায়ে যেতে তাদের আরও সময় দরকার।
বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যায়। এ বিভাগে উন্নতিতে আপনার ভূমিকা কী থাকবে?
দেবিকা: এতো বছর তাদেরকে দূর থেকে দেখেছি। এখন দেখবো কাছ থেকে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, এখনই তাদের বিষয়ে মন্তব্য করলে সেটা অনেক দ্রুত হয়ে যায়। এক বা দুই বছর কাজ করলে হয়ত বুঝতে পারবো।
বাংলাদেশি নারী খেলোয়াড়দের কেমন সম্ভাবনা দেখছেন?
দেবিকা: আমার মনে হয় তাদের মধ্যে খুব ভাল সম্ভাবনা আছে। তাদেরকে এখন কেবল সঠিক পথটা দেখিয়ে দিতে হবে, যাতে সামনে এগোতে পারে।
এমন কারো নাম বলতে পারেন, যাদেরকে নিয়ে আপনি মুগ্ধ…?
দেবিকা: সালমা আছে। জাহানারা আছে, সে অধিনায়কত্বও করেছে। দুই-তিনজন আছে। আরও যারা আছে, তাদের সাথে মিশতে হবে। তাদেরকে দেখতে হবে।
আপনি কোন বিভাগ নিয়ে কাজ করবেন?
দেবিকা: ভারতে আমি তিনটি বিভাগ নিয়েই কাজ করেছি। এখানে প্রধান কোচ আছেন। উনি যে জায়গায় মনে করবেন আমার সাহায্য দরকার, তা করতে প্রস্তুত আছি। আমি তিনটি বিভাগেই কাজ করতে প্রস্তুত।
ব্যাটিং নিয়ে বড় দুশ্চিন্তা আছে, তাদের কখনো কখনো বল ৩০ গজও পার করতে কষ্ট হয়ে যায়। আপনি কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবেন বলে মনে হয়?
দেবিকা: যদি এমন হয়, তারা বল ৩০ গজও পার করতে পারছে না, তার মানে তাদের পাওয়ার হিটিং দক্ষতা প্রয়োজন। এখানেও সেই ফিটনেসের কথা চলে আসে। তাদের ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে হবে।
আপনি ডিসেম্বর পর্যন্ত বিসিবির সঙ্গে থাকবেন। ব্যাটসম্যানদের বড় উন্নতির জন্য এই সময়টা কি যথেষ্ট?
দেবিকা: যদি মেয়েদের দ্রুত বুঝতে পারি, তাহলে পরিবর্তন আনতে খুব বেশি সময়ের দরকার নেই। তবে তাদের সঠিক কাজটা করার ইচ্ছে থাকতে হবে। সময় খুব বড় ব্যাপার নয়। তারা যদি প্রস্তুত থাকে, তাহলে উন্নতি হবে।
অল্প সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
দেবিকা: আপনি চারটি আসরের কথা বলছেন। পঞ্চম আসরটিই আবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। আমি ফোকাস করেছি সেটিকে। নভেম্বরে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। সাউথ আফ্রিকা সিরিজ দিয়ে বিশ্বকাপের দিকে যাত্রা শুরু হবে। সুতরাং সবগুলো ধাপ নিয়ে না ভেবে আমরা আপাতত একটা একটা আসর ধরে আগাবো।
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে তুলতে কতটা আশাবাদী?
দেবিকা: উন্নতি যে হবে, সেটা নিশ্চিতভাবেই আশা করতে পারেন। ফলাফলটা নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারবো না। তারা যদি প্রসেস ঠিক রাখে..! ফলাফল আসলে কারো হাতে নেই। আমরা জানি, ক্রিকেট খুবই অনিশ্চিত খেলা। যাকিছু হতে পারে।







