‘প্রবাসীরা কি টাকার মেশিন? ২৫ বছর পর একজন প্রবাসী দেশে ফিরে আসার পর সবাই তাকে জিজ্ঞাসা করে তুমি আবার কবে যাবা? কেউ জিজ্ঞাসা করেনা ২৫ বছরের কষ্টের কথা? কেউ বুঝতে চায়না তার ভেতরের কষ্ট। সবার সুখের জন্য যে নিজের ভালোবাসাকে বিসর্জন দিয়ে দেশ ছেড়েছিল। সেই কষ্ট কেউ বোঝেনা। বাবা-ভাই-বোন কেউ না! তবে কি সে ‘কলুর বলদ’? চোখ বাঁধা অবস্থায় টেনে চলেছে জীবনের ঘানি? তবে একজন আছেন যিনি মমতায় বুকে আগলে রাখতে চান। তিনি মা। মমতাময়ী মা চাননা সন্তান আর বিদেশে যাক। এবার সে মায়ের কোলেই থাকবে আশা তার।’

এমন হৃদয়স্পর্শি এক গল্পে নির্মিত হয়েছে চ্যানেল আইয়ের ঈদের বিশেষ টেলিফিল্ম ‘কলুর বলদ’। যে টেলিছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। আর রিয়াজের চাচার চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা আজম খান। যে কাজটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি। কারণ, এই টেলিছবির মধ্য দিয়ে তিনি অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক রিয়াজ, মামুনুর রশীদ ও দিলারা জামানের মতো তুখোড় অভিনেতাদের সাথে। চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলার সময় ‘কলুর বলদ’-এ নিজের চরিত্রটি বর্ণনা করলেন তাই একটু মজা করেই। বললেন, রিয়াজ যখন বিদেশ যায় তখন আমিই তাকে টাকা দিয়েছিলাম এবং সে যখন বিদেশ করে ফিরে আসে তখন তার কাছে আমি আমার ছেলেকে নিয়ে আবদার করি যেনো তাকে বিদেশে নিয়ে যায়! যেহেতু আমি তাকে বিদেশ যেতে সহায়তা করেছিলাম তাই একটু অধিকার নিয়েই আবদার করি। নানা ধরনের ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করি আমি। বলি, তোমার কাছে যখন টাকা ছিলো না তখন আমিই কিন্তু টাকা দিয়েছিলাম। এখন তুমি আমার ছেলেকে বিদেশ নিয়ে যাও।
প্রবাসীর মর্মস্পর্শী উপলব্ধি নিয়ে এমন বাস্তবধর্মী টেলিছবির রচিয়তা মেজবাহউদ্দিন সুমন। আর ‘কলুর বলদ’ নামে টেলিফিল্মটি নির্মাণ করছেন সাজ্জাদ সুমন। চ্যানেল আইয়ের ঈদের অনুষ্ঠান মালায় টেলিছবিটি প্রচার হবে।
তবে একটা বা দুটো তিনটে টেলিছবি বা নাটকেই অভিনয় করছেন না আজম খান। এরইমধ্যে বেশকিছু কাজ করে ফেলেছেন তিনি। এমনকি ঈদ কেন্দ্রীক ব্যস্ততায় এখনো ডুবে আছেন। শুধু তাই না, বুধবার দুপুরে যখন তার সাথে ফোনে কথা হয় তখনও তিনি ঈদের একটি নাটকের জন্য অবস্থান করছিলেন রাজধানীর আমিন বাজার এলাকায়। শুটিং চলাকালীন সময়েই কথা বললেন তিনি।
জানালেন, এখন পর্যন্ত ঈদের জন্য ১৫টি নাটকে অভিনয় শেষ করেছেন। বুধ ও বৃহস্পতিবার চলবে ১৬ নম্বর নাটকের কাজ। তারপরদিন আরো একটি নাটকে অভিনয় করার কথা আছে।

বিরাট সংখ্যক নাটকে অভিনয় করছেন। অভিনয়ের প্রস্তুতি, মান কেমন দেখছেন?-এমন প্রশ্নে আজম খান বলেন, ঈদের সময় অনেক কাজ হয়। ১৫/১৭টায় কাজ করছি শোনে হয়তো বিরাট সংখ্যক মনে হচ্ছে কিন্তু তার প্রেক্ষিতে কিন্তু বহু চ্যানেলও রয়েছে। এখনতো দেশে অনেক চ্যানেল। আর মান নিয়ে সীমাবদ্ধতাতো থাকেই। নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা মেনেই এখানে সবাই কাজ করেন। তবে পার্সোনালি আমি বেশ ভালো কিছু নাটকে কাজ করেছি। পুরনো অসংখ্য মানুষের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সুবর্ণা মুস্তাফার মতো অভিনেত্রীর সাথে কাজ করেছি, আবার এই প্রজন্মের প্রভা, সজল থেকে শুরু করে জোভান, শবনম ফারিয়াদের সাথেও কাজ করছি। এটা ভালো একটা কোলাবরেশন হচ্ছে। যদিও এবার নাটদের দর্শক নিয়ে সবার মতো আমি কিছুটা চিন্তিত। কেনোনা বিশ্বকাপ শুরু হলে সবার মনযোগ ওইদিকেই থাকবে।
পাকা অভিনেতা বনে গেলেও অভিনয়ে আজম খানের ক্যারিয়ার কিন্তু খুব বেশি দিনের নয়। ২০১৫ সালের আগে তিনি কখনো ক্যামেরার সামনেই দাঁড়াননি। কথায় কথায় অভিনয় জীবনে নাম লেখানো ও এই প্রসঙ্গে কিছুটা কষ্টের কথাও শেয়ার করেন তিনি। বললেন, আমি ছোট বেলায় সামাজিক সংগঠন করতাম। সেই সূত্র থেকে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মের সাথে জড়িত ছিলাম। এরপর কর্ম জীবনে পাব্লিক রিলেশানে ক্যারিয়ার শুরু করলে মিডিয়ার অনেকের সাথেই পরিচয়। একদিন কথাচ্ছলেই অভিনয়ের প্রতি আসক্তি জনিত সুপ্ত বাসনার কথা বলে ফেলি। তখন দু চারজনকে আমি রিকুয়েস্ট করেছিলাম। প্রথম আমাকে অভিনয়ে নেন চয়নিকা চৌধুরী। তার হাত ধরেই অভিনয় জীবনে আমি প্রবেশ করি।

যেদিন প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান সেদিনই আজম খানের কানে আসে মায়ের মৃত্যুর খবর। এমনটায় জানান এই ব্যাংকার অভিনেতা। এমন কষ্টের কথা জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, আমি ২০১৫ সালের ৩ জুলাই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই। আর এদিনই আমাকে শোনতে হয়েছিলো একটি কষ্টের খবর। আর সেটা হলো, এদিনই আমার মা মারা গিয়েছিলেন।
তবে সবকিছু ভুলে ভালো কাজ চালিয়ে যেতে চান আজম খান। কাজের মাধ্যমে আপামর মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে চান এই অভিনেতা। আসছে ঈদে চ্যানেল আইয়ে কলুর বলদ, শেরের উপর শোয়া সের এবং একদিন খুঁজেছিনু যারেসহ বেসরকারি আরো বেশকিছু টেলিভিশনের জন্য নির্মিত ১৪টি নাটক ও টেলিছবিতে অভিনয় করছেন তিনি।







