বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় শ্রীলঙ্কার একটি এনজিও’র ৬ পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশ ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন দেশটির আদালত। দেশটির পুলিশের ধারণা, চুরি যাওয়া অর্থের কিছু অংশ ওই ছ’জনের কাছে গেছে।
আদালতের নির্দেশনাটি শ্রীলঙ্কার ইমিগ্রেশন বিভাগ কার্যকর করবে বলে জানিয়েছেন বিভাগের মুখপাত্র লাকশান জয়সা।
শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের পরিচালিত তদন্তের ওপর ভিত্তি করে রাজধানী কলম্বোর চিফ ম্যাজিস্ট্রেট গিহান পিলাপিটিয়া সোমবার নিষেধাজ্ঞাটি জারি করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ আদালতকে জানায়, শালিকা ফাউন্ডেশন নামের ওই সংস্থাটি গত ২৮ জুন কলম্বোর একটি বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলে। এর মাত্র ৬ দিন পরই প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ওই অ্যাকাউন্টটিতে জমা হয়। ওই ঘটনায় ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংককে সতর্ক করে এবং অর্থ ফেরত পাঠায়।
শ্রীলঙ্কা পুলিশ জানায়, স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার উদ্দেশ্যে শালিকা ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছিলো। এনজিওটির অফিস কলম্বোর একটি ভাড়া বাড়িতে অবস্থিত। এছাড়া ওই এনজিও সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাংকটি থেকে অর্থ ফেরত পাওয়া গেলেও বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সহজেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ফিলিপিন্সের বিভিন্ন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতে সফল হয় জালিয়াতরা।
শালিকা ফাউন্ডেশনের ৬ পরিচালকের বিরুদ্ধে জারি হওয়া দেশ ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রেক্ষিতেই এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডেমোক্র্যাট দলীয় মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ক্যারোলিন ম্যালোনি।
আনুষ্ঠানিক এক চিঠিতে তিনি ফেড রিজার্ভের কাছে জানতে চান, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ স্থানান্তরের ৩৫টি নির্দেশনার মধ্যে ৩০টি আটকে দিলেও বাকি ৫টি কেনো পাস করলো নিউ ইয়র্ক ফেড।
ম্যালোনির প্রশ্ন, নিউ ইয়র্ক ফেড ৩৫টি অর্ডারই পাস করার আগে বাংলাদেশ ব্যাংককে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করার জন্য জানালেও প্রথম ৫টি অর্ডার পাসের জন্য কেনো বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারলো না?
চোরেরা কীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে তা বিস্তারিত তদন্তের জোর দাবি করেন তিনি।
এর জবাবে নিউ ইয়র্ক ফেড জানিয়েছে, তারা যতো দ্রুত সম্ভব ম্যালোনির সঙ্গে যোগাযোগ করে তার প্রশ্নের উত্তর জানাবে।
ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ডাডলি বলেন, এই ‘নির্লজ্জ’ জালিয়াতির কারণে ফেডারেল রিজার্ভের ওপর বিদেশী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ভরসা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে যাচ্ছে।







