বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরির ঘটনা তদন্তে ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আগের অবস্থান থেকে সরে ফরাসউদ্দিন বলেছেন, চুরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজনের সহযোগিতা ছিলো। দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সর্বোচ্চ ২০ দিনের মধ্যে রিপোর্টটি প্রকাশ করা হবে।
চুরি হওয়া অর্থ কোথায়, কীভাবে গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কারা জড়িত, তা জানতে নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়েছে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি। ২০ এপ্রিল অর্ন্তবর্তীকালীন রিপোর্টের পর ৭৫ দিনের মাথায় পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও জমা দিলেন কমিটির সদস্যরা।
তদন্ত কমিটির প্রধান ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, আমরা দেখেছি, কারা দায়ী, কে কোন উদ্দেশ্যে কাজটা করেছে। আমাদের পক্ষে বাইরের কোন সাইবার ক্রিমিনালরা জড়িত, তা জানা সম্ভব না। তা আমাদের কর্মপরিধিতেও ছিলোনা। এবং কিভাবে কতটা টাকা আদায় করা সম্ভব তার একটা চিত্র আমরা দিয়েছি। আগে মনে হচ্ছিলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কারো কোনো সম্পৃক্ততা নাই, এখন সেটা একটু পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সেটা কেমন তা রিপোর্টে আছে। সুইফটের দায় আছে। তবে সম্পূর্ণ দায় কিনা সে বিষয়টাও প্রতিবেদনে আছে। সুইফট কখনো তার দায় এড়াতে পারবে না।
তদন্ত কমিটির ২৭ পৃষ্ঠার রিপোর্টে ৭টি সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সাপ্তাহিক ছুটি সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে যাতে বন্ধের দিন শুক্র-শনিবারও সব ধরনের নজরদারি থাকে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সুপারিশগুলো বিবেচনা করা হবে। এই তদন্তটা করা হয়েছে এই জন্য যে, কিভাবে এই ঘটনাটা ঘটলো এবং এখন করণীয় কি? যা করার আমরা করবো।
রিজার্ভ থেকে চুরির ঘটনায় ব্যাংকিং বিভাগের সেসময়ের সচিব ড. এম আসলাম আলমকে ওএসডি এবং দুজন ডেপুটি গভর্নরকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার চুরির চেষ্টা হয়। তবে চুরি হয় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। ঘটনার জের ধরে ১৫ মার্চ পদত্যাগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সময়ের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। সেদিনই ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে আহবায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। পরবর্তীতে ফিলিপিন্স সরকারের প্রচেষ্টায় পাচার হওয়া অর্থের একটা বড় অংশের খোঁজ মেলে।








