শুধু আইন দিয়ে নারী নির্যাতন, অবজ্ঞা-অবহেলা থামানো যাবে না। চাই মানসিকতার পরিবর্তন- সংশোধন। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। সে আন্দোলন যে কেবল রাজপথেই হতে পারে এমন কোনো কথা নেই।
বরং রাস্তায় মানববন্ধন-সভা-সমাবেশ করে জনভোগান্তির কারণ না হয়েও দেয়া যায় পরিবর্তনের বার্তা। এমনকি সেইসব বদলে দেয়ার বার্তা-বাহন হতে পারে নগরজীবনের চিরচেনা রিকশাও।
রিকশা পেইন্টিং ইতোমধ্যেই শহুরে লোকশিল্পের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। ‘নারী’ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণায় আঘাত হেনে প্রাণের কথা বলতে রিকশা পেইন্টিংকেই বেঁছে নিয়েছে নারীবান্ধব অনলাইন কমিউনিটি ‘মেয়ে’।
‘মেয়ে’র উদ্যোগে ১ এপ্রিল রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটিতে ‘ রংবাজি: রিকশা রাঙাই প্রাণের কথায়’ আয়োজনে শামিল হয়ে এনামেল রঙ আর তুলি-ব্রাশে পরিবর্তনের বিমূর্ত কথাগুলো যেনো মূর্ত করলেন অংশগ্রহণকারীরা।
‘লজ্জা ধর্ষকের, ধর্ষিতার নয়’,‘ঘরের কাজ ফেলনা নয় বাইরের কাজ খেলনা নয়’, ‘নারীর অপমান জাতির অসম্মান’, ‘মেয়েরা মানুষ,মাল নয়’…রিকশায় আঁকা-লেখা এমন কথাগুলো যেনো হয়ে উঠলো এক একটি বর্ণিল প্রতিবাদ, চলমান স্লোগান।
এতো মাধ্যম থাকতে রিক্সা পেইন্টিং কেনো? এমন প্রশ্নের উত্তরে আয়োজকরা জানায়, ‘রিকশা আমাদের নাগরিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। রিকশাপেইন্টে উঠে আসে সমসাময়িক সমাজচিত্র। চলমান যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে এবার তাই আমরা নিজের হাতে রিকশায় ফুটিয়ে তুলেছি নিজেদের প্রাণের বাক্য, ভাবনার রঙ।
‘মেয়ে’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলেও এই ‘রংবাজি’ ছিলো নারী-পুরুষসহ সকল লিঙ্গের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। সামাজিক মাধ্যমে ‘মেয়ে’র এই ব্যতিক্রমি উদ্যোগে সাড়া পড়ে যায়। ইভেন্ট ভেন্যুতে হাজির হয় নানা বয়সী নারী-পুরুষ ‘রংবাজ’। তাদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই ছিলো চোখে পড়ার মতো।
নিজেদের এই উদ্যোগে সামাজিক পরিবর্তনের পথে একটি প্রচেষ্টা জানিয়ে উদ্যোক্তারা বলেন,‘অপেশাদার আর্টিস্টদের হাত ধরে যে ধারার শুরু হলো, আশা করি আমাদের পেশাদার রিকশাপেইন্টার ‘আর্টিস্টরা’ তা এগিয়ে নিয়ে যাবেন আরো দূরে। এই রিকশাগুলো হবে আমাদের চলমান স্লোগান’।







