সরকারি ব্যাংকের টাকা লুটপাট করবে দুর্নীতিবাজর। আর লুট হওয়ার জন্য যখন আর্থিক ঘাটতি দেখা দিবে তখন জনগণের করের টাকা দেয়া হবে ব্যাংকের মূলধন জোগান দিতে। বাহ্ কী সুন্দর মগের মুল্লুকে আমরা বসবাস করছি! পত্রিকায় পড়েছি, দুর্নীতি আর লুটপাটের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ১৫ হাজার কোটি টাকা। আর এ কারণে মূলধন ঘাটতির মুখে পড়েছে ব্যাংকগুলো।
আমাদের চোখের সামনে এখনো জ্বলজ্বল করছে সোনালী ব্যাংকের ২ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা হলমার্ক গ্রুপ কিভাবে নিয়েছে। দেশব্যাপী আলোড়ন তোলার মত ঘটনা। এছাড়া মূলধন ঘাটতি রয়েছে বেসিক ব্যাংকের ২ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকা, কৃষি ব্যাংকের ৭ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ৭৩৭ কোটি টাকা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৭০৫ কোটি টাকা।
গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানীর একটি হোটেলে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, বেসিক ব্যাংকে উচ্চপর্যায়ের মাধ্যমে দুর্নীতি হয়েছে। আর সোনালী ব্যাংকে যা হয়েছে, তাকে বলা যায় বড় ধরণের ডাকাতি।
খোদ অর্থমন্ত্রীই যখন এ রকম কথা বলেন, তখন বুঝতে হবে আসলে লুটপাট বা ডাকাতিটা কী ভয়াবহ না হয়েছিল। আরও অবাক হবার মত ঘটনা, তিন বছরের জন্য বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর শেখ আবদুল হাই বাচ্চুসহ ঋণ বিতরণের অনিয়মের সাথে গোটা পর্ষদকেই দায়ী করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও আবদুল হাইকে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগ দেওয়া হয়। এবং সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলামকে একইভাবে দুই দফা নিয়োগ দেওয়া হয়। কী বিচিত্র এ দেশ!
এভাবেই এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত অর্থ বছর পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা মূলধন বাবদ ব্যাংকগুলোকে দিয়েছে। বিষয়টা এমন যে, ব্যাংকগুলো থেকে চোরের দল টাকা চুরি করে নিয়ে যাবে। আর অর্থমন্ত্রী জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে তা আদায় করে ব্যাংকগুলোকে দিবে কিছু করে খা- আর কি। এভাবে দিতে দিতে স্বভাব নষ্ট করা হচ্ছে। কারণ চোরের দল দেখবে বাহ্ ভালো তো! আমরা চুরি করছি আর প্রতিবছর আমাদের মন্ত্রী মহোদয় ঘাটতি পূরণে আমাদের টাকা দিচ্ছে। তা হলে আর সমস্যা কি চুরি করতে। চুরি করেই যাবো।
জনগণের করের টাকা দিয়ে তাদের শিক্ষা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাখাতকে আরও উন্নত করার পরিবর্তে কেন রাস্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং খাতকে এত অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তা বোধগম্য হচ্ছে না আমাদের মত সাধারণ মানুষদের। যে সরকারি ব্যাংক আমাদের দেশের অর্থনীতিতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। বরং কিছু মানুষের লুটপাট করার তীর্থস্থান হিসেবে প্রাধান্য পাচ্ছে সেই ব্যাংক বন্ধ করে দিলে কি খুব ক্ষতি হয়? বা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে সমস্যাই বা কোথায়?
অন্যান্য বেসরকারি ব্যাংক দেশে দাপটের সাথে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সেবার মান নিঃসন্দেহে যেকোনো সরকারি ব্যাংকের চাইতে উন্নত। তারা কিভাবে জনগণকে সেবা দিচ্ছে? তারা কিভাবে বছর শেষে লাভবান হচ্ছে? নাকি এই সরকারি ব্যাংককে জিইয়ে রাখার অন্য কোনো দুরভিসন্ধি আছে? কিছু লোকের লুটপাট করে খাওয়ার মহাউৎসবে পরিণত হয়েছে। এখন আর উৎসব থেকে ফেরানোর কোনো পথ নেই।
মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে বিণীত অনুরোধ, দয়া করে আর জনগণের করের টাকা দিয়ে সরকারি ব্যাংকের মূলধন জোগান দিবেন না। আমরা কর দেই, দেশের উন্নতির জন্য। কোনো লুটপাটকারীদের উন্নতির জন্য না। আমাদের করের টাকায় দেশ উন্নয়নের পথে হাঁটবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, স্বাস্থ্যখাত উন্নত হবে, চিকিৎসার সুযোগ পাবে দেশের প্রতিটি নাগরিক, সেই রকম হাসপাতাল দেশের ভেতর গড়ে তুলুন আমাদের করের টাকায়। তবু দয়া করে রাস্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতা আর দিবে না। প্লিজ।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)








