নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যৌনতা সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও ফাঁস নিয়ে গতকালই মুখ খুলেছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট দায়িত্বভার গ্রহণকে সামনে রেখে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন। তবে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করার পরও ট্রাম্পের আরও একাধিক এমন রগরগে ভিডিও থাকতে পারে বলে বিশ্বাস সিআইএ-র।
“সেখানে সম্ভবত একাধিক টেপ ছিলো, শুধু ভিডিও নয়, অডিও-ও ছিলো, একাধিক দিনের এবং তা শুধু মস্কোতে নয় সেন্ট পিটার্সবার্গেও।” ওয়াশিংটন থেকে সরাসরি সম্প্রচারে বিবিসির সাংবাদিক পল ওড এমনটি জানান।
এই অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করা বিবিসির এই প্রতিবেদক সিআইএ’এর কাছ থেকে এমন বার্তা পাওয়ার দাবি করেন। তাদের বরাতে তিনি জানান, এই অভিযোগের নিরিখে তাদের (সিআইএ) কাছে একাধিক সুত্র আছে, যেগুলোকে তারা ‘বিশ্বাসযোগ্য’ মনে করছেন।
তবে রাশিয়ান একটি হোটেল রুমে ধারণ করা ট্রাম্পের কোন রগরগে ভিডিওর এই অভিযোগকে ভুয়া বলেন ট্রাম্প। ক্রেমলিনও এমন বিস্ফোরক তথ্যকে অস্বীকার করে। নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে গতকালের এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্যকে ভুয়া ও বানোয়াট বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার রাগ ঝারলেও দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জেমস ক্ল্যাপার ট্রাম্পকে বলেছিলেন যে এই ফাঁস সরকারের কোন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে হয়নি।
রাশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থার হাতে ট্রাম্পের এমন বিব্রতকর তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগটি মূলত একজন সাবেক ব্রিটিশ গোয়েন্দার, যিনি এম১৬ নামে দীর্ঘদিন গোয়েন্দা কাজ চালিয়েছেন।
এর আগেও এই অভিযোগ বিষয়ে জানতে বিবিসির এই প্রতিবেদক তৎপর হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগের বিষয়ে সিআইএকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন বলে জানান। তবে বাজফিডে প্রচারিত হওয়ার আগে তারা (সিআইএ) তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
“অভিযোগের বিষয়ে জানতে নভেম্বরের শুরুতে আমি সিআইএকে বার্তা দিয়েছিলাম। এব্যপারে আমার সাথে কথা বলা কোন কর্মকর্তার জন্য বৈধ না। তবে এই তথ্যগুলো তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য বলে আমি অন্য একটি মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে ফিরতি বার্তা পাই। তবে শুধু এম১৬ লোকটি নয়, তাদের অন্য একাধিক সূত্র ছিলো।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়ে সাবেক এম১৬ অফিসার ক্রিস্টোফার স্টিল (৫২) ট্রাম্পের ডেমোক্রেটিক এবং রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বিদের জন্য নথি প্রস্তুত করেছিলেন বলে ধারণা।
স্টিল এখন লন্ডনভিত্তিক ওরবিস বিজনেস ইন্টেলিজেন্স লিমিটেড এর পরিচালক। যিনি অনেক বছর রাশিয়া এবং প্যারিস এবং লন্ডনের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ অফিসে এম১৬ নামের কূটনৈতিক আড়ালে কাজ করেন। সাবেক ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে এমনটি জানায়।
স্টিলের সাফল্য কম নয়। গোয়েন্দার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর স্টিল ইউএস ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশনের (এফবিআই) কাছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার দুর্নীতি বিষয়ক তথ্য দিয়েছিলেন। যা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিলো।







