রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কা আপত্তি তুলে নিয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যে বক্তব্য দিয়েছে সেটা কোনভাবেই ইউনেস্কোর বক্তব্য নয়, এটা সরকারের নিজস্ব বক্তব্য বলে দাবি করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম।
চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন: জোর লবিংয়ের কারণে ইউনেস্কো তার অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে। কিন্তু সরকার যেভাবে বলছে যে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইউনেস্কো সব বাধা উঠিয়ে নিয়েছে এটা ঠিক নয়। কারণ ইউনেস্কো সভার সব তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। তাতে কোথাও ইউনেস্কোর এমন বক্তব্য নেই। এটা সরকারের নিজস্ব বক্তব্য।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইউনেস্কো রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে যে আপত্তি জানিয়েছিল তা তুলে নিয়েছে। রামপালের কারণে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য হুমকির মধ্যে রয়েছে এমন তালিকা থেকেও সুন্দরবনকে বাদ দেয়া হয়েছে। রামপালের বর্তমান অবস্থান সুন্দরবনের জন্য কোন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে না বলে পোল্যান্ডের ক্র্যাকোভে ইউনেস্কোর ৪১তম অধিবেশনে মত দেয়া হয়।
‘জনগণকে বিভ্রান্ত করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে,’ মন্তব্য করে অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন: অনলাইনে ইউনেস্কোর সর্বশেষ পোস্ট দেখেছি; সেখানে এমন কিছু বলা হয়নি। তাছাড়া মিটিং এখনও চলছে। শেষ হবে ১২ জুলাই। তার আগেই এমনটা দাবি করাও ঠিক নয়।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন: সরকারের একটি লবি গ্রুপ গিয়েছে সেখানে। তারা ইউনেস্কোকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। খুব সম্ভবত তাদের (বাংলাদেশি প্রতিনিধি) পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খবর পাঠানো হয়েছে। তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করেছে। কিন্তু এটা ইউনেস্কোর কোন খবর নয়।ইউনেস্কো এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি, এটা সরকারের ভাষ্য।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন: ইউনেস্কো রামপালের ব্যাপারে ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে মর্মে সরকার যা বলছে, তা আমরা গ্রহণ করছি না। কারণ সরকারতো ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার কেউ না। আমার কাছে বিষয়টি বিভ্রান্তিকর মনে হয়েছে। কারণ এ বিষয়ে যা বলার ইউনেস্কো বলবে। তারা কিছু বলেনি। কিন্তু যে সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে বলে আমরা জানি, তার বাইরে গিয়ে (সরকারের পক্ষ থেকে) এমন একটা পরিষ্কার সিদ্ধান্ত দেয়া বিভ্রান্তিকর।
‘সরকারের এটা উচিত হয়নি। উচিত ছিল ১২ তারিখ মিটিং শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। এরপর ইউনেস্কো যে সিদ্ধান্তের কথা বিশ্বব্যাপী প্রকাশ করবে, সেই সিদ্ধান্তটি জনগণকে জানানো উচিত ছিল। তাদের মত থাকলে সে মতসহ বলতে পারতো। কিন্তু এইভাবে নিজেদের মতো করে একটা বলে দিলাম, এটা ঠিক হয়নি। আমি এটাকে যৌক্তিক মনে করি না।’
বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি রামপালের বিপক্ষে গেলেও, জোর করে সরকারের রামপালের পক্ষে অবস্থানকে বিস্ময়কর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন: ব্যাপারটি আমার কাছে বিস্ময়কর। আমি টোটালি বিষয়টিকে বৈজ্ঞানিকভাবে দেখি, এখানে আমার কোন রাজনৈতিক স্বার্থ নেই। আমি বুঝতে পারি না এটা না করলে সরকারের কী ক্ষতি হবে? প্রকল্পটি সম্পর্কে আমার কাছে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
তিনি বলেন: সরকার রামপাল ইস্যুতে কেন গোঁ ধরে আছে বুঝতে পারছি না। যে জিনিসটা পরিষ্কার, সেটা হচ্ছে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে যেটা প্রমাণিত হয়েছে যে রামপাল সুন্দরবন তথা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শুধু দেশীয় বিজ্ঞানি নয়, বিদেশী অনেক বিশেষজ্ঞ যারা এ ধরনের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ক্ষেত্র সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞ, এদের মধ্যে আমেরিকান, ইউরোপিয়ান অস্ট্রেলিয়ানরাও রয়েছেন। এদের বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে আমরা ১২টি রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করেছি। এর মধ্যে কোনটায় পারদের প্রভাব, কোনটায় ছাই কী ক্ষতি করবে, কোনটা বাতাসে কী ক্ষতি হবে, পানির কী ক্ষতি হবে, এ সম্পর্কে আলাদা আলাদা রিপোর্ট আমাদের কাছে আছে। এই রিপোর্টগুলো এমন নয় যে কেউ বলে দিলো বা দুই লাইন লিখে দিল তার ভিত্তিতে হয়েছে। এর প্রতিটি রিপোর্ট যথাযথ তথ্য উপাত্ত দিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। কিন্তু কেন যে সরকার তা আমলে নিচ্ছে না বুঝতে পারছি না।
তিনি বলেন: সব বৈজ্ঞানিক তথ্যই বলছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সমুহ ক্ষতির আশঙ্কা। কেউই বলছে না যে ক্ষতি হবে না। এবং টেন্ডার ডকুমেন্টে যে সমস্ত অর্ডার দেওয়া হয়েছে কীভাবে এটি তৈরি করা হবে, তাতেও দেখা যাচ্ছে যে এখানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে না। সে বিষয়গুলোও আমাদের রিপোর্টে আছে।
‘সরকার যেটা বলছে যে বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবাদীরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, উনারা জানেন না বা উনারা উন্নয়ন চান না সেটা তো ঠিক নয়। কারণ আমরা তো সরকারের বাইরের কেউ নই। আমরা সরকারকে সাহায্য করতে চাই। আমাদের কথাবার্তাগুলো সরকারের সহায়ক হিসেবে আমরা দিচ্ছি। কিন্তু সরকার যদি মনে করে আমরা বিরোধিতা করছি– এই ভাবনাটি ভুল, আমরা তো বিরোধিতা করছি না।’
বৈজ্ঞানিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা উচিৎ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন: আমাদের মনে হয় সরকারের উচিত এই রিপোর্টগুলোকে আমলে নিয়ে তার ভিত্তিতে তাদের বক্তব্য দেওয়া উচিত। সরকারের যদি মনে হয় আমাদের রিপোর্ট ঠিক নয়, তবে কোনটা ঠিক সেটি তারা বলুক। যেমন পারদ নিরোধক হিসেবে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে সেটা সর্বাধুনিক নয়। এখন সরকার যদি সেটা ব্যবহার করতে চায়, তবে তারা বলুক সেটাই সর্বাধুনিক বা সেটা ব্যবহার করা হলে কোন ক্ষতি হবে না।
ভূতত্ত্ববিদ্যার এ অধ্যাপকের মতে, শেষ পর্যন্ত ইউনেস্কোর মিটিংটি নিয়েও সরকার জল ঘোলা করছে। তারা ১২ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতো। তারপর ইউনেস্কো যখন ঘোষণা দিত, তার ওপরে সরকার কথা বলতে পারতো। কিন্তু মিটিংয়ের মাঝ পথে এসে এমন কথা বললেন তার সাথে ইউনেস্কোর বক্তব্যের কোন মিল নাই। সরকার এমন তথ্য কোথা থেকে পেল জানি না।
তিনি বলেন, সারাবিশ্বেই কয়লার ব্যবহার কমে যাচ্ছে। চীনের মত দেশ যারা কয়লার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিল, তারা আস্তে আস্তে কয়লার ব্যবহার কমিয়ে দিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। ভবিষ্যতেও বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা তাদের নেই। ভারতও তাই করছে। ইউরোপিয়ান অনেক দেশ ইতোমধ্যেই তাদের কয়লা প্লান্ট বন্ধ করে দিয়েছে। কয়লা কেন্দ্রগুলোর ধোঁয়ার কারণে চীনের লোকজন ‘ক্লিন স্কাই’ দেখতে না পারা চীন সরকারের একটি মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে তারা কয়লার ব্যবহার থেকে সরে আসছে।
‘কিন্তু আমাদের দেশে যেহেতু তেল বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, গ্যাসও শেষ হয়ে আসছে। সেক্ষেত্রে আমরা কয়লা ব্যবহার করতে পারি বা এটা আমাদের দরকারও। কিন্তু তাই বলে এমন নয় যে, সুন্দরবনের পাশে একটি কয়লা প্লান্ট করে সুন্দরবন ধ্বংস করে দিতে হবে। বাংলাদেশে কি আর জায়গা নেই? সুন্দরবনেই কেন করতে হবে? সরকার সুন্দরবনটাকে শেষ করতে এভাবে উঠে পড়ে লেগেছে কেন?’
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার পরিপন্থী উল্লেখ করে তিনি বলেন: উন্নয়ন আমাদের দরকার, কিন্তু সেটা টেকসই হতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি করে যে উন্নয়ন সেটা টেকসই হবে না। এ ধরনের উন্নয়ন জাতিসংঘের এসডিজি বা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সারাবিশ্বই যেখানে কয়লার ব্যবহার থেকে সরে আসতে চাচ্ছে বা ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে সেখানে বাংলাদেশে কেন কয়লাভিত্তিক প্লান্টের দিকে ঝুঁকছে? বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বদরুল ইমাম বলেন: এখানে ভারতের একটা চাপ থাকতে পারে। কারণ ভারতও কয়লা থেকে আস্তে আস্তে সরে আসছে, সৌরবিদ্যুতের দিকে খুব অগ্রসর হচ্ছে। ভারত যদি কয়লা ব্যবহার থেকে সরে আসে তাহলে তারা যে বিশাল কয়লা উত্তোলন করে বসে আছে ভবিষ্যতে এ কয়লা কোথায় দেবে। সুতরাং ভারত চায় আশেপাশে কিছু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট করতে, যাতে এ কয়লাগুলো দেয়া যায়। যেমন শ্রীলঙ্কাতে একটি কয়লাভিত্তিক প্লান্ট করতে চেয়েছিল। ওখানে আমাদের মতোই একটি আন্দোলন হয়েছিল। যেটা সরকার শুনে সেই প্লান্ট বন্ধ করেছে। কিন্তু আমাদের কথা সরকার শুনছে না।
‘এই প্লান্টের কারণে সুন্দরবনকে ইতোমধ্যেই ডেঞ্জারজোনে ফেলার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এখন না ফেললেও ২০১৮ সালের মধ্যে সময় বেঁধে দিয়েছে। সুতরাং ভবিষ্যতে যে ফেলবে না ব্যাপারটি এমন নয়। আমার মনে হয় এখনই সুন্দরবনকে ডেঞ্জারজোনে না ফেলাকেই তারা ভাবছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করায় ইউনেস্কোর আপত্তি নাই।’
শুধু দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষজ্ঞদের মতও সরকার উপেক্ষা করছে দাবি করে বদরুল ইমাম বলেন: ইউনেস্কো একবার নয়, তিন তিনবার সরকারকে বলেছে যে আমরা রাজি না, তোমরা এটা সরাও। প্রথমবার যখন তাদের তিনজন প্রতিনিধি রামপাল পরিদর্শন করতে আসে। তখন সরকার তাদের মতো করে দেখিয়েছে। আমরা প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম, তারাও কথা বলতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকার আমাদের সে সুযোগ দেয়নি, একবারে প্লেনে তুলে দিয়েছে। আমরা ভাবলাম সরকার যেভাবে তাদের বুঝিয়েছে তা বুঝে ওরা হয়তো বলবে যে ঠিক আছে তোমরা কর। কিন্তু তারা ফিরে গিয়ে ঠিকই বলেছে যে, এটা দূষণ করবে, এটা সরাতে হবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয়বার যখন সরকার উত্তর দিলো তারপরও ইউনেস্ক বললো, তোমাদের উত্তরে আমরা সন্তুষ্ট নই ওটা সরাতে হবে। তৃতীয়বারও ইউনেস্কো বললো যে তারা রাজি নয়।
‘এখন চতুর্থবার এসে, বিভিন্ন লবিং করে ইউনেস্কোকে তাদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরানো গেছে। এখন ইউনেস্কো হয়তো মনে করছে যে ঠিক আছে এটা তো তাদের দেশ তারা উন্নয়ন এভাবে করতে চায় তাহলে ঠিক আছে কিছুটা ছাড় দিই। যার কারণে তারা দুটি বিষয়কে ছাড় দিয়েছে।’
‘গ্রিনপিসের মতো প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষাকেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। তারা সুন্দরবন এবং রামপাল নিয়ে খুবই নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়েছে এবং প্রকল্পটিকে সরকারের একটি নিম্মমানের প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছে।’
তিনি বলেন: আমার মনে হয় অনেকটা জোর করেই ইউনেস্কোকে এ পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু তারপরও তো ইউনেস্কো এটা ক্লিয়ার করেনি। তারা বলেনি যে না, এতে কোন দূষণ হবে না, আপনারা এটা করতে পারেন।’
‘ইউনেস্কো যদি এমন কথা বলে তাহলে আমরা আর এটা (রামপাল) নিয়ে কথা বলবো না, আজকেই চুপ করে যাবো। কিন্তু সরকার তা দেখাতে পারছে না।ইউনেস্কোর সর্বশেষ যে পোস্ট, তাতে এখনও তারা বলছে যে তোমাদেরকে সাস্টেইনেবল এনভায়রনমেন্ট অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে।তারা আরো বলছে, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে অ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং সেটি যাচাই বাছাই করে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।’
সার্বিকভাবে অধ্যাপক বদরুল ইমাম মনে করেন, এখনও যদি সরকার এ প্রকল্প থেকে সরে আসে, তাহলে শুধু সুন্দরবন, পরিবেশ এবং দেশেরই নয় লাভ হবে সরকারেরও।








