সরকারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দেশব্যাপী কোটা সংস্কার আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে(রাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবারও আন্দোলন করেছে। এতে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটি আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলেও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে।
‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের’ আন্দোলন স্থগিতের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
যেখানে শিক্ষার্থীদের একাংশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বামপন্থী সংগঠনের নেতারা। অারেক পক্ষে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির রাবি শাখা। এ আন্দোলন নিয়ে মঙ্গলবার দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি সাংবাদ সম্মেলনও করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির রাবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ মুন্নাফ বলেন, আমরা কোটা সংস্কার আন্দোলন বর্তমানে স্থগিত রেখেছি। কেননা আগামী ৭ মে পর্যন্ত সরকার কোটা সংস্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। সরকারের আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই আমরা আন্দোলন স্থগিত রেখেছি। কিন্তু আমাদের এই কোটা সংস্কারের পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির যে সদস্যরা আছেন তাদের সাথে কথা বলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। তবে আমাদের এই আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার জন্য কিছু কুচক্রি মহল দলে ঢুকে গিয়েছে। যারা এই আন্দোলনকে ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত করার জন্য চেষ্টা করেছে।
অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেয়া হয়েছে বলে জানায় কিছু বামপন্থী নেতা। তবে তাদের অধিকাংশই বামপন্থী সংগঠনের নেতাকর্মী।
নিজেদের সাধারণ শিক্ষার্থী বলে দাবি করে তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশব্যাপী কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন চলছে। আমরা রাবিতেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এসময় তারা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে বলেন, এই আন্দোলনকে ব্যাহত করার জন্য এটা একটা বড় চক্রান্ত।
বুধবার সকল বিভাগের ক্লাস বর্জন, অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেন তারা।
এর আগে বেলা ১১ টার দিক পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। একপক্ষ কোটা সংস্কার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ডাক দেয়। অন্যদল সে আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী যোগদান করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। এতে বিশ্বদ্যিালয়েল জোহা চত্বরে উত্তাপ ছড়িয়ে পরে। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।
এই অবস্থার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেলে করে মহড়া দেয়। ‘ক্যাম্পাসে দুর্বৃত্ত পেলেই পেটানো হবে’ বলে কারা স্লোগান দিতে থাকে।
তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কিছুটা শান্ত আছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।








