পেস বোলিং আক্রমণে সাউথ আফ্রিকার শক্তিশালী অবস্থানের কথা সর্বজনবিদিত। বর্তমান সময়ের বিশ্বসেরা সিমার ডেইল স্টেইন যেমন ব্যাটসম্যানদের মনে আতঙ্ক ছড়ান; তেমনি পূর্বেও এই দলের মাখায়া এনটিনির মতো দুর্দান্ত বোলারদের দাপট ছিলো।
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ২০ বছর বয়সী কাগিসো রাবাদা যা করে দেখালেন দীর্ঘ ক্রিকেট ইতিহাসেই তা অনন্য। ঝড়ো গতি এবং নিখুঁত লাইনে বল করে ওয়ানডেতে নিজের অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তাইজুল ইসলামের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন রাবাদা। মাত্র ১৬ রান দিয়ে টাইগারদের ছয় ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে গড়েছেন অনন্য অসাধারণ বিশ্ব রেকর্ড।
ওয়ানডেতে অভিষেক ম্যাচেই এতো বড় সাফল্য দেখেনি আর কোন বোলার।
বিস্ময়ের আগমনী বার্তা নিয়ে কাগিসো রাবাদা প্রথম অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। গত ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিত অস্ট্রলিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচে ২৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নেন রাবাদা।
পরবর্তীতে আবারও প্রথম শ্রেণির টেস্ট ম্যাচে এক ইনিংসে ৩৩ রান দিয়ে ৯ উইকেট তুলে নেন এই অসামান্য প্রতিভাধর বোলার।
ইস্টার্নস-এর হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের অভিষেক ম্যাচেই গোটেং এর বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৮ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন রাবাদা। পরের সপ্তাহে ৬৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে আবার সবার নজর কাড়েন তিনি।
লায়ন্সের হয়ে ক্যারিয়ারের দশম প্রথম শ্রেণির ম্যাচটিতে দলকে নেতৃত্ব দেন কাগিসো রাবাদা। ডলফিনের বিপক্ষে সেই ম্যাচে তিনি গড়েন এক বিস্মময়কর কীর্তি। প্রথম ইনিংসে ৭২ রানে ৫ উইকেট লাভ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩ রান দিয়ে ৯ উইকেট শিকার করেন এই বিস্ময় বালক।
ফ্রেঞ্চাইজের যুগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সেরা বোলিং সাফল্য দেখিয়ে ১০৫ রান দিয়ে ১৪ উইকেট লাভ করেন রাবাদা। যা প্রোটিয়াদের সেরা পেস বোলার ডেইল স্টেইনের ৭ মৌসুম পূর্বে করা ১১০ রানে ১৪ উইকেট লাভের কীর্তিকেও ছাড়িয়ে যায়।
তাই জুলাইয়ের ১২ তারিখে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে টাইগারদের ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার জন্য কোগিসো রাবাদার প্রতি আলাদা বিশেষ দৃষ্টি রাখতেই হবে।






