রানা প্লাজা দুর্ঘটনার শিকার ৪৮ ভাগ শ্রমিক এখনো বেকার। শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণে তারা এখনো কাজে ফিরতে পারছেন না। প্রায় ৫৯ ভাগ শ্রমিক দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা একশনএইড বাংলাদেশ এমন তথ্য দিয়েছেন।
তাদের করা ‘রানা প্লাজা ধ্বসের তিন বছর: পোশাক শিল্পের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে রানা প্লাজা থেকে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পোশাক খাতের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, বেঁচে থাকা শ্রমিকদের প্রায় ৭৯ শতাংশ নিজে ব্যবসা করতে চান। মাত্র ৫ ভাগ শ্রমিক পোশাক শিল্পে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। অর্থাৎ এখনো অধিকাংশ শ্রমিকদের মধ্যে কারখানায় কাজ করার ভীতি আছে।
প্রতিবেদনটি এক হাজার ৩’শ জনের উপর করা হয়। যাদের বেশির ভাগেরই বয়স ২১ থেকে ৩০ এর মধ্যে। আর ৫০০ মৃত শ্রমিকের পরিবার থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে আরো উঠে এসেছে, দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিকদের ২০ ভাগের পরিবারে ২ জন এবং ২৩ ভাগের আছে ৪জন করে নির্ভরশীল সদস্য রয়েছে। তাদের আয়ের ৬১ ভাগ খাবারে ১৬ ভাগ ঘর ভাড়ায় এবং ৮ ভাগ চিকিৎসার জন্য খরচ হয়।
প্রতিবেদনটিতে ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রে চেয়ারপার্সন হামিদা হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকরা যা পেয়েছে বা পাচ্ছে তাকে আসলে ক্ষতিপূরণ বলা যাবে না। এখন আইনে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার কথা বলা হয়েছে। আইনী কিছু জটিলতা আছে। শ্রমিকরা যে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় পড়েছেন তাতে তাদের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা জরুরি। আর এর সঙ্গে দায়বদ্ধতা জড়িত। এখন শ্রমিকদের উন্নয়নে নানা কাজ করা হচ্ছে তবে তার সমন্বিত কোনো উদ্যোগ নেই’।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি’র অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘শ্রমিকদের জন্য যে সহায়তা দেয়া হয়েছে সেটা পূর্ণাঙ্গ নয়। তাদের কর্মসংস্থান, পুনর্বাসনের জন্য যা করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। শ্রমিকরা এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় শারীরিক ও মানসিক সমস্যা নিয়ে আছেন। যারা যে জায়গায় আছেন সেখানে গিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। শ্রমিকদের আর্থিক সহযোগিতা ভেঙ্গে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এই টাকা তারা কাজে লাগাতে পারেনি।’
তিনি আরো বলেন,‘ অনেক উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। তবে সমন্বিত কোনো উদ্যোগ নেই। নানাভাবে একশনএইড, ব্রাক বা সরকার কাজ করছে। তবে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। এখন আসলে সময় এসেছে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করার।’







