আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেকটা সময় বাকী থাকলেও বলা যায় দেশের নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য আগামী নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জিং মনে করে যোগ্য প্রার্থীর সন্ধানে আগেই সক্রিয় আওয়ামী লীগ। বিতর্কিত ও জনপ্রিয়তায় তলানিতে থাকা সংসদ সদস্য ও নেতাদের তালিকা করছেন তারা। দলের মনোনয়ন নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের শীর্ষ কয়েক নেতাকে ‘জনপ্রিয় প্রার্থী’ তালিকা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা নিজ নিজ বিভাগে জরিপ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থী বাছাইয়ের কিছু নির্দিষ্ট মাপকাঠি ঠিক করে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, এলাকায় বিতর্কিত ও জনবিচ্ছিন্নদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। বিভিন্ন জেলা জেলায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড উদ্বোধনের সময় দলের পক্ষে ভোটও চাইছেন তিনি। বিতর্ক থাকলেও বর্তমান সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টিও নির্বাচনকে সামনে রেখে ৫৮ দলের জোট গঠন করেছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটে না থাকারও ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও ভোটের রাজনীতিতে এটা স্বাভাবিক বলে আমরা মনে করি। অবস্থাদৃষ্টে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে বলে মনে হওয়া দেশের অন্যমত প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনে যাবেন কি যাবে না, এই সংশয় থাকলেও তারা ৫১ টিম গঠন করে সাংগঠনিক ক্ষমতা বাড়াতে জেলায় জেলায় ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের স্বক্ষমতা বোঝাতে ৯০০ প্রার্থী তৈরি আছে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। সর্বশেষ চমক হিসেবে অনেকটা নির্বাচনী ইশতেহারের মতো করে ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণা করেছেন বিএনপির চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ক্ষমতায় গেলে কী কী করবেন, মোটা দাগে সেসব বিষয় রয়েছে খালেদা জিয়ার এই ঘোষণায়। নিবন্ধণ হারিয়ে নির্বাচন করার যোগ্যতা হারানো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম সাংগঠনিকভাবে প্রায় নিশ্চুপ থাকলেও হঠাৎ দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা হেফাজতে ইসলাম নিয়ে নানা কথা-আলোচনা চলছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে সঙ্গত কারণে অনেকেই ভোট দিতে পারেনি। সংবিধানের ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্রের প্রয়োজনে ওই নির্বাচনের পরে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে যারা সন্দেহ পোষণ করছেন, আমাদের ধারণা বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর উপরোক্ত বিষয়গুলো তাদের সন্দেহ দূর করতে পারে। গণতন্ত্রের নিয়মতান্ত্রিক ধারায় আগামীতে ভোট ও ভোটাধিকার প্রদানের পরিবেশ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট আন্তরিক এবং সচেষ্ট হবেন বলে আমরা আশাবাদী।








