বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেকটি মাইলফলকের বছর হতে যাচ্ছে ২০১৮ সাল। এ বছরই দশম জাতীয় সংসদ পূর্ণ করছে তার মেয়াদ। সেই সঙ্গে একাদশ জাতীয় নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে বছরের শেষ ভাগে। তাই নতুন বছরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গণে একদিকে যেমন উত্তেজনা, তেমনই আছে উৎকণ্ঠাও।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বলছে, উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে আবারও আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে দেশের জনগণ। আর বিরোধী দল জাতীয় পার্টি মতে, ‘স্থিতিশীল পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় নির্বাচন; সেখানে অঙ্কার তেমন কিছু নেই।’
দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির বক্তব্য: রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে নতুন বছরে। আর সব মত বিবেচনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘২০১৮ সালে বেশ উত্তাপ ছড়াবে রাজনীতির মাঠ।’
রাজনীতির ময়দানে ২০১৮ সাল কেমন যাবে? এমন প্রশ্ন রাখা হয়েছিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে।
এর উত্তরে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেছেন, ‘২০১৮ সাল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য কঠিন একটি বছর। নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও মাথাচাড়া দিতে পারে সাম্প্রদায়িক শক্তি। যাদের চেষ্টা থাকবে, জাতি বিভেদের দুয়ো তুলে দেশকে আবারও সংঘাতের রাজনীতির দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া।’
তাই নতুন বছরে সবাইকে সংঘবদ্ধ থেকে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার পরামর্শ দেন ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এ নেতা।
নতুন বছরে বিএনপি নতুন উদ্যম নিয়ে রাজনীতির মাঠে থাকবে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেছেন, ‘নতুন বছর হবে বিএনপির। ২০১৮ হবে গণমানুষের সাল। যারা লড়াই করে যুদ্ধ করে এ দেশের স্বাধীনতা এনেছেন; এটা হবে তাদের সাল। আমরা আছি লড়াই করে, লড়াই করে যাচ্ছি, লড়াই করে যাবো। ২০১৮ সালে অবশ্যই জনগণের সরকার (বিএনপি সরকার) প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হবো।
দশম জাতীয় সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টির ভাবনা কিছুটা ভিন্ন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাপা সাংসদ মোঃ মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আমাদের দল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত এককভাবে নির্বাচন করার সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি আমরা। তবে, ভবিষ্যতে কি হবে সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না!’
কারণ হিসেবে তিনি গত দেড় দশকের জোটবদ্ধ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতিই রয়েছে; কিন্তু দেশে এখন জোটবদ্ধ রাজনীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। তাই আগামী নির্বাচনে কি হবে এখনই বলা যাচ্ছে না।’
তবে নির্বাচন ঘিরে সংঘাত-উৎকণ্ঠার কিছু দেখছেন না জাতীয় পার্টির এ নেতা।
দশম জাতীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নিলেও একাদশ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের প্রত্যাশার বিপরীতে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপি এখন নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি করছে। এর আগে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে নির্বাচন বর্জন করেছিল। নিজেদের দুর্নীতির চিত্র ঢাকতেই তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। প্রকৃত অর্থে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এদেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করবে।
তবে হানিফের এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলছেন, ‘২০১৭ সালে দেশে গণতন্ত্র ছিল না। বিএনপি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে লড়ে যাচ্ছে। তাদের নিজেদের মন্ত্রীই স্বীকার করেছেন- ঘুষ দুর্নীতির সঙ্গে মন্ত্রীরাও যুক্ত। ২০১৮ হবে দেশবাসীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ও বড় পরিবর্তনের বছর।’
‘‘নির্বাচনে দেশের জনগণ এবারের নির্বাচনে গুম, খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, শেয়ারবাজার লুট, ব্যাংকের টাকা লুটের জবাব দেবে।’’
সবকিছু মিলিয়ে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত থাকবে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার।
তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আমাদের দেশে মাঝের কিছুটা সময় বাদে (২০০৭-২০০৯) প্রায় তিন দশকের কিছুটা সময় ধরে গণতান্ত্রিক দলগুলো ক্ষমতায় রয়েছে। তারপরও তাদের একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধার রাজনৈতিক সংস্কৃতি তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি।’
বিএনপি দাবিকে উদ্ধৃত করে শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘বিএনপি বলছে, দলীয় সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে না। তবে সরকার তাদের অবিশ্বাস দূর করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। গত তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান অবস্থানে এটা স্পষ্ট বড় কোন কিছু না ঘটলে, সব দলের অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে টানা দ্বিতীয় বারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দবিতে ওই নির্বাচন বর্জন করে তখনকার প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। মোট ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ১৫৮টিতেই বিনায় প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয় পায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা।







