নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর রক্তাক্ত মৃতদেহগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে মসজিদের মেঝেতে পড়ে ছিল বলে জানিয়েছে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শীরা।
শুক্রবার শহরের হাগলি পার্কের ডিনস এভিনিউয়ে জুমার নামাদ আদায় করতে আল নুর মসজিদে কয়েক শো মানুষ সমবেত হয়েছিলেন একইভাবে লিনউড মসজিদেও সমবেত হয়েছিল মুসল্লীরা।
আল নুর ও লিনউড মসজিদের ভেতরে ও বাইরে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা সেখানকার ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন।
মসজিদের পাশে বসবাসকারী লেন পেনেহা নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেন, স্বয়ংক্রিয় মেশিনগ্যান নিয়ে হেলমেট ও কালো পোশাক পরা একজন লোক আল-নূর মসজিদে প্রবেশ করে এবং তারপরই বেশ কিছু গুলির শব্দ হয়। এসময় লোকজনকে ছোটাছুটি করতেও দেখি।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে আসার আগেই বন্দুকধারী ওই সন্ত্রাসী পালিয়ে যায় বলেও জানান পেনহা।
তিনি বলেন, বন্দুকধারী সন্ত্রাসী চলে যাওয়ার পর আমি মসজিদে গিয়ে সাহায্যের চেষ্টা করি।
‘আমি মসজিদের মেঝেতে রক্তাক্ত মৃতদেহগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখেছি।’, যোগ করেন তিনি।
পেনহা জানান, বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, এইভাবে কেউ একজন প্রাথর্নারত মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। আমি এখানে পাঁচ বছর বসবাস করছি, বিশ্বাস করুন এখানকার মানুষ অনেক শান্তিপ্রিয়।এমন ঘটনা সত্যিই ভীতিকর।

হামলার সময় মসজিদে থাকা আরেক ব্যক্তি জানান, মসজিদে পঞ্চাশের ওপরে লোকজন ছিল, গুলি শুরু হলে তিনি এক বেঞ্চের নীচে লুকিয়ে যান। অনেকেই মসজিদের জানালা ও দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
হামলার পর হতাহতদের স্বজনেরা ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালে ভিড় করছেন। তারা আহত প্রিয়জনের খবরের অপেক্ষায় আছেন। স্বজন হারানোর আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে মসজিদে নামাজ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে একজন বন্দুকধারী সন্ত্রাসীর সিজদায় থাকা মুসল্লিদের ওপর গুলি ছুঁড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জন নিহত ও ৪৮ জন গুরুতর আহতাবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ্যারডার্ন এ ঘটনাকে দেশটির ইতিহাসে ‘অন্ধকার দিন’ দিন হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা উল্লেখ করে জড়িতদের খুঁজে বের করার কথাও বলেছেন তিনি।
নিউজিল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী চারজন ধরা পড়েছে। এদের মধ্যে তিন পুরুষ ও এক নারী আছেন।









