যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নিজেদের ঘর থেকেই নিজেদের পদক্ষেপ নিতে হবে উল্লেখ করে হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেছেন, আমাদের নিজেদের ঘরই আসলে ঠিক নাই।
শনিবার “যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা” শীর্ষক কর্মশালায় এই বিচারপতি আরো বলেন, আমরা এজলাসে বসে মানুষের ঘর ঠিক করার কথা কতটুক নৈতিকভাবে বলতে পারি সেটা নিয়েও প্রশ্ন আসতে পারে।
ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) ও বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত কর্মশালায় বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, নারীরা আমাদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নারীদের বাদ দিয়ে সমাজ ও পৃথিবীর অস্তিত্ব চিন্তা করা যায় না। তাই নারীদের যৌন হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। আমাদের প্রত্যেককেই তার নিজ নিজ জায়গা থেকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কাজ করতে হবে।
যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের আলোকে দ্রুত একটি আইন প্রণয়ন করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, শিক্ষা কিংবা কর্ম প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ‘কমপ্লেইন কমিটি’ আছে কিনা তা দেখতে হবে। না থাকলে ‘কমপ্লেইন কমিটি’ গঠনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এবং প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটলে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে এই বিচারপতি বলেন, সংবাদ মাধ্যমের মালিক ও সম্পাদকদেরও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত আলোচনা সেমিনারে সম্পৃক্ত করতে হবে।
কর্মশালায় বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি বা অন্য যেকোন ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের জন্য শিক্ষকদের দায় নিতে হবে। কারণ শিক্ষকরাই হচ্ছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক থাকা অবস্থায় কোন ধরনের নির্যাতন হতে পারে না।
সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী আরো বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের রায় থাকার পরও সুপ্রিম কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কোন কমিটি করা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবায়দা পারভিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সীমা জহুর ও বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির পরিচারক অ্যাডভোকেট তৌহিদা খন্দকার।
আরো বক্তব্য রাখেন ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বাবলুর রহমান, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ওয়াকিল আহমেদ হিরন, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান রাজু, সাবেক সভাপতি এম বদি-উজ-জামান, চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিবেদক মাজহারুল হক মান্না, একাত্তর টিভির সিনিয়র রিপোর্টার মিলটন আনোয়ার ও সময় টিভির রিপোর্টার আফজাল হোসেন।








