২৩টি শর্তারোপ করে ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার দুপুর ১২টার সময় বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই অনুমতি দেয় বলে জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে করে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে সমাবেশের জন্য লিখিত সম্মতি দিয়েছে ডিএমপি। আমরা আনন্দিত। ধন্যবাদ ডিএমপিকে।’
এ সময় মির্জা ফখরুল সমাবেশে সার্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদেরকে ২৩টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। যতই শর্তই দেয়া হোক না কেন আমরা সমাবেশ করবো। শর্ত দিক কিংবা না দিক আমরা সমাবেশ করবো।
বিএনপির সমাবেশের জন্য ডিএমপির দেয়া এসব শর্তে বলা হয়েছে মিছিল নিয়ে সমাবেশে প্রবেশ করা যাবে না এবং সমাবেশ বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
শর্তের শুরুতেই লেখা আছে ”এই অনুমতিপত্র স্থান ব্যবহারের অনুমতি নয় এবং স্থান ব্যবহারের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমোদন নিতে হবে”
অন্যান্য শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, অনুষ্ঠান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী ও জনস্বার্থ, রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তা বিরোধী কার্যকলাপ করা যাবে না, উস্কানিমূলক কোন বক্তব্য প্রদান বা প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোন বিষয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান বা প্রচার করা যাবে না, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সংলগ্ন স্থানে অনুষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত নিজস্ব সেচ্ছাসেবক (দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ) নিয়োগ করতে হবে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠান স্থলের অভ্যন্তরে ও বাইরে উন্নত রেজুলেশনের সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশ গেটে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে এবং অনুষ্ঠানে আগতদের হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেকিং এর ব্যবস্থা করতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থলে আগত সকল যানবাহন তল্লাশি ব্যবস্থা করতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানস্থলে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে, অনুমোদিত স্থানের বাইরে সাউন্ডবক্স ব্যবহার করা যাবে না, অনুমোদিত স্থানের বাইরে বা সড়কের পাশে প্রজেকশন স্থাপন করা যাবে না, অনুমোদিত স্থানের বাইরে, রাস্তার বা ফুটপাতের কোথাও লোক সমবেত হওয়া যাবে না, আযান, নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক/ শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না, অনুমোদিত অনুষ্ঠান ব্যতিত মঞ্চকে অন্য কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে না, অনুষ্ঠান শুরুর ২ (দুই) ঘণ্টা পূর্বে লোকজন-সভাস্থলে আসতে পারবে, অনুমোদিত সময়ের পূর্বে কিংবা পরে অনুমোদিত স্থানের আশপাশসহ রাস্তায় কোন অবস্থাতেই সমবেত হওয়াসহ যান ও জন চলাচলে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না, কোন ধরনের লাঠি-সোটা, ব্যানার, ফেস্টুন বহনের আড়ালে লাঠি, রড ব্যবহার করা যাবে না,
এছাড়া, উল্লেখিত শর্তাবলী যথাযথভাবে পালন না করলে তাৎক্ষণিক এই অনুমতির আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে। জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ কোন কারণ দর্শানোর ব্যতিরেকে উক্ত অনুমতি আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন বলেও শর্তে উল্লেখ করা হয়।

বিএনপি বলছে, এসব শর্ত মেনে নিয়েই বিএনপি কালকে সমাবেশ করবে। ইতোমধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে।
সমাবেশের অনুমতি বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা এই সমাবেশ অনুষ্ঠান করতে চাই, কিন্তু কেন তারা (আওয়ামী লীগ) এই সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে এটা তাদের ব্যাপার।’
“তবে একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, এছাড়া তাদের কোন বিকল্প নেই। গণতান্ত্রিক ধারা তাঁদেরকে ফিরিয়ে আনতে হবে। নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে এবং জনগণের আশা আকাঙ্খা পূরণ করতে হবে, তা না হলে তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।’’
৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সমাবেশটি করছে বিএনপি। সমাবেশ শুরু হবে রোববার দুপুর ২টায়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
বিএনপি মহাসচিব বলছেন, এ সমাবেশ থেকে বেগম খালেদা জিয়া জনগণের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিবেন। রোববারের সমাবেশে লোক সমাগম অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে বলছে বিএনপি।







